কলকাতা: ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে মানুষ করেছেন’, অভিষেকের (Abhishek Banerjee) এই মন্তব্যের ২৪ ঘন্টার মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) গলাতেও আবেগের সুর। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিষেককে নিয়ে যেন সম্পূর্ণ বদলে গেলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ। হঠাৎ কি হল?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর হয়ে সওয়াল করার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ। এরপর প্রকাশ্যেই তিনি অভিষেককে নিশানা করে মন্তব্য করেছিলেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে, তারপরেও ঔদ্ধত্য যায়নি।” শুধু তাই নয়, ‘মমতাদিকে বেছে নিতে হবে, দলে কে থাকবে, আমি না অভিষেক’, বলেছিলেন কল্যাণ।
X Link: https://x.com/ANI/status/2065694531040030826
তৃণমূলের ভাঙনের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েক দশকের সহযোদ্ধা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী তৃণমূল সাংসদের (Kalyan Banerjee) ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা শুরু হয়, তবে কি এবার আরও এক পোড় খাওয়া সৈনিককে হারাতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই অভিষেকের বয়ান আসে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) অধিকার রয়েছে আমায় নিয়ে কথা বলার। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে আমায় নিয়ে চারটে কটূ কথা বলার। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় মানুষ করেছেন, ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন। আমার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তিগত ক্রোধ, ক্ষোভ নেই। আমি তাঁকে আগেও সম্মান করতাম, আগামীদিনেও করব।’
এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘অভিষেক আমার ছেলের মত। ছেলের সব ভুল বাবা ক্ষমা করে”, বললেন কল্যাণ (Kalyan Banerjee) । রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই ১৯ জন সাংসদ পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারা চাইছে আরও একজন বর্ষীয়ান হেভিওয়েট সাংসদকে ভাঙাতে। এই পরিস্থিতিতে কল্যাণকে হারানো কোনোমতেই সইতে পারবেন না মমতা। তবে কি সেইকারণেই এই মিটমাট? উঠছে প্রশ্ন।


