Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শনিবার ভোররাতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। শালবনি ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে অভিষেকের এক আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে খোঁজার চেষ্টা করা হলেও সেই বাড়ি থেকে কোনও সন্দেহজনক নথি বা বস্তু উদ্ধার হয়নি। সেই সিজার রিপোর্ট প্রকাশিত হতেই বিজেপিকে নিশানা করে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose) ও সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
শনিবার রাত প্রায় ৩টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনী সহ পুলিশ কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয়। পরে দরজা খুলতে না পারায় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের ডেকে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ছাদ পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই অভিযানের শেষে কোনও বাজেয়াপ্তি হয়নি। ঘটনায় বিশেষ ক্ষুব্ধ ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose)। তিনি অভিযানের সময়সূচি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, যদি শেষ পর্যন্ত কিছুই উদ্ধার না হয়, তাহলে এত বড় অভিযান কেন প্রয়োজন হল? তাঁর মতে, এটি বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। “Operation Lotus” কথাটি উল্লেখ করে তিনি বিজেপিকে নিশানা করে অভিযোগ করেন যে বিজেপির বিরোধী শিবিরের নেতাদের ভয় দেখানো বা চাপে রাখার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তল্লাশিতে কোনও প্রমাণ মেলেনি। তার মানে ইচ্ছাকৃতই এভাবে পুলিশি অভিযান চালিয়ে বিরোধী নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও বলেন, ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কোনও কিছু উদ্ধার করা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী শিবিরকে ভয় দেখানোর চেষ্টা।
ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি সামনে আসেনি। তল্লাশির উদ্দেশ্য এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


