Aaj lndia Desk, কলকাতা:বীরভূমে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। তদন্তে উঠে এসেছে, জাল ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট (ডিসিআর) ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শুক্রবার গোটা বিষয়টি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বরং গোটা নেক্সাসের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রশাসনের কোনও অংশ বা প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মত তাঁর।
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, সরকার অতীতে নিজেই বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কথা বলেছে। ফলে এত বড় আর্থিক অনিয়ম বছরের পর বছর চললেও সরকার কিছু জানত না, এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই নেক্সাসে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’-এর ভূমিকা কী ছিল? পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে শ্বেতপত্র প্রকাশেরও দাবি জানান বিরোধী দলনেতা।
এদিন বর্ধমানে জঙ্গি-যোগ সন্দেহে এক যুবকের গ্রেফতারির ঘটনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেন, অভিযুক্তের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, সীমান্তের ওপারের পাশাপাশি এপারের কোনও সহযোগী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও সরব হন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে গোটা চক্রের শিকড়ে পৌঁছনো এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।


