Aaj lndia Desk, কলকাতা : পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরী আবাসন থেকে গ্রেফতার হওয়া ২৪ বছরের মহম্মদ হামিম মণ্ডল ওরফে হামিম ফুয়েগোকে ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। রাজ্য এসটিএফ-এর দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ধৃতের যোগাযোগ ছিল এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানের অভিযোগ মিলেছে। ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিম বাইরে থেকে সাধারণ জীবনযাপন করলেও গোপনে বিদেশভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং এক্স (X)-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বার্তা আদানপ্রদানের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তে ‘রানা’ নামে পাকিস্তানভিত্তিক এক ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের সূত্রও মিলেছে বলে দাবি এসটিএফ-এর।
ধৃতের আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে একটি আইফোন, দুটি সিম কার্ড এবং একাধিক ডিজিটাল চ্যাট উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই গোটা যোগাযোগ চক্রের পরিধি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য ছিল নতুন সদস্য সংগ্রহ, অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, হাওড়ার বালির বিধায়ক উমেশ রাইয়ের পরিবারের এক সদস্যকে অপহরণের পরিকল্পনার ইঙ্গিতও মিলেছে ডিজিটাল চ্যাট থেকে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্যও বিদেশি যোগাযোগের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার পর রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। জানা গিয়েছে ব্যক্তি ও সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য সহযোগী এবং এই চক্রের বিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এসটিএফ।.


