নয়াদিল্লি: দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, লাদাখের মানুষের অধিকার নিয়ে সরব হওয়া, এবার সেই সোনম ওয়াংচুকেরই (Sobam Wangchuk) প্রতিষ্ঠানের স্কুলে কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রশাসনের! লাদাখের ফিয়াংয়ে অবস্থিত ‘ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল’-এ আপাতত কোনও কাজকর্ম না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমি সংক্রান্ত মামলা জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাই কোর্টে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত স্কুলের কার্যকলাপ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে লেহ প্রশাসন। আর এই নির্দেশ ঘিরেই নতুন করে চর্চায় সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) প্রতিষ্ঠান।
ঠিক কী ঘটেছে?
জানা গিয়েছে, গত ১ নভেম্বর লেহর তহশিলদার দফতর থেকে নোটিস পাঠানো হয় হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস (HIAL)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও CEO গীতাঞ্জলী জে আংমোকে। তিনি সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) স্ত্রীও। প্রশাসনের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সম্মতি, ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ফিয়াংয়ের ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যকলাপ শুরু হয়েছিল। তাই হাই কোর্টে জমি সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের কাজকর্ম নিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু এই নির্দেশের নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় জমি-বিতর্ক। HIAL-কে লাদাখের ফিয়াং থাং এলাকায় ১,০৭৬ কানাল ও এক মারলা জমি ৪০ বছরের লিজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। জমির পরিমাণ প্রায় ১৩৪.৫ একর। কিন্তু ২০২৫ সালের অগস্টে সেই জমির বরাদ্দ বাতিল করে দেয় প্রশাসন। এরপরই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) প্রতিষ্ঠান। সেই মামলারই এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিজের শর্ত পূরণ হয়নি। জমির প্রিমিয়াম ও গ্রাউন্ড রেন্ট জমা দেওয়া এবং লিজের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করার মতো শর্তও পূরণ করা হয়নি বলে আদালতে জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের আরও বক্তব্য, যে উদ্দেশ্যে জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রমাণও মেলেনি।
অন্যদিকে, HIAL-এর CEO গীতাঞ্জলী আংমোর বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর দাবি, লিজের চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ার কারণ ছিল প্রশাসনের নিজস্ব লিজ নীতির অনিশ্চয়তা। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনই বারবার জানিয়েছিল নীতি চূড়ান্ত না হওয়ায় লিজ কার্যকর করা যাচ্ছে না। এমনকী, নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে জমি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে।
আর সেই আইনি টানাপড়েনের মধ্যেই এবার স্কুলের কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ। যে প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে লাদাখে বিকল্প শিক্ষার মডেল গড়ে তোলার স্বপ্ন Aesthetic সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk), সেই প্রতিষ্ঠানের স্কুলই এখন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায়। তবে এটিকে স্কুলে শারীরিকভাবে তালা ঝোলানোর ঘটনা বলা ঠিক হবে না, প্রশাসনের নোটিসে মূলত হাই কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কার্যকলাপ বন্ধ রেখে ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কতদিন বন্ধ থাকবে ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের কার্যকলাপ? জমি নিয়ে এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষ কোথায়? আর বিকল্প শিক্ষার যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎই বা কী? আপাতত নজর জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাই কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


