Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান : ডিউটিতে থাকা অবস্থায় নিজের সার্ভিস রিভলভার মাথায় ঠেকিয়ে পরপর চার রাউন্ড গুলি! দুর্গাপুরে কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল সঞ্জয় জানার মৃত্যুকে (Durgapur Constable Death) ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, নিজের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই কনস্টেবলের। কিন্তু একই জায়গায় মাথায় পরপর চারটি গুলি চালানো কি আদৌ সম্ভব? ঘটনাটির বিবরণ সামনে আসতেই উঠছে এমনই একাধিক প্রশ্ন। যদিও ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত (Durgapur Constable Death) কনস্টেবল সঞ্জয় জানার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে। কর্মসূত্রে তাঁর পোস্টিং ছিল দুর্গাপুরের কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডে। মঙ্গলবার রাতে পানাগরের জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডের ধারে একটি হোটেলের সামনে ডিউটিতে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে হোটেলে বসেছিলেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। অন্যদিকে, গাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন সঞ্জয়। আচমকাই নিজের সার্ভিস রিভলভার দিয়ে মাথায় গুলি চালান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় সঞ্জয়কে পড়ে থাকতে দেখে সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করেন। তাঁকে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরপর চারটি গুলি, উঠছে প্রশ্ন
নিজের সার্ভিস রিভলভার মাথায় ঠেকিয়ে পরপর চার রাউন্ড গুলি চালান সঞ্জয়। আর এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সাধারণভাবে একটি রিভলভার থেকে একাধিকবার গুলি চালাতে হলে প্রতিবার ট্রিগার টানতে হয়। কিন্তু নিজের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পরপর চারটি গুলি চালানোর যে বিবরণ সামনে এসেছে, তা কতটা বাস্তবসম্মত? আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার জানিয়েছেন, “ওই কনস্টেবল নিজেই গুলি চালিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” (Durgapur Constable Death)
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের এই মৃত্যুর ঘটনায় অনুমান নয়, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ব্যালিস্টিক রিপোর্ট। সত্যিই কী ঘটেছিল, তার উত্তর মিলতে পারে তদন্তের পরবর্তী ধাপেই।


