Aaj India Desk, দক্ষিন দিনাজপুর : সকালবেলা মন্দিরের সামনে ভয়াবহ দৃশ্য দেখে প্রথমে থমকে যান স্থানীয়রা। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্পষ্ট হয়, ঘটনাটি কোনও সাধারণ অশান্তি নয়। স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে কখনও মন্দিরে বসে রয়েছেন এক ব্যক্তি, আবার কখনও সেই মুন্ডু নিয়েই ঘুরছেন এলাকার রাস্তায়! বুধবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের নারায়ণপুরে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। (Narayanpur Murder Case)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম সীমা ঘোষ সরকার (৩৫)। বুধবার সকালে গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর ঘোষপাড়া এলাকায় ঘটনাটি সামনে আসে। অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পর তাঁর মুন্ডু শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন রিন্টু। এরপর সেই কাটা মুন্ডু নিয়ে তাঁকে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। কখনও আবার স্থানীয় কালীমন্দিরে বসে থাকতে দেখা যায় অভিযুক্তকে। (Narayanpur Murder Case)
সকালে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অভিযুক্ত রিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সীমার কাটা মুন্ডু ও দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে একটি ধারালো দা-ও। (Narayanpur Murder Case)
প্রায় ১৫ বছর আগে রিন্টু ও সীমার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। রিন্টু একসময় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় অস্থায়ী কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। পাশাপাশি, রাস্তার ধারে ফুল, মুড়ি ও গুড় বিক্রিও করতেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রিন্টু। দম্পতির মধ্যে প্রায়ই নানা বিষয় নিয়ে অশান্তি হতো বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
এই ঘটনার সঙ্গে তন্ত্রসাধনার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তন্ত্রসাধনা করছিলেন রিন্টু। বাড়ির কালীমন্দির ও সংলগ্ন দুর্গামন্দিরে দিনের বড় একটা সময় কাটাতেন তিনি। যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দাম্পত্য কলহের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে খুনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


