Aaj India Desk, কলকাতা : এক মামলায় জামিন হতেই আরেক মামলায় হাজিরার ডাক! আইনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই ফের তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে (Sandip Ghosh)। সুপ্রিম কোর্ট থেকে সিবিআইয়ের মামলায় জামিন পাওয়ার পর এবার তাঁকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপ, টেন্ডার দুর্নীতি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সেই সমস্ত আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান ইডি আধিকারিকরা। সিবিআইয়ের তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক তছরুপের অভিযোগে আলাদা করে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ফলে এক মামলায় জামিন মিললেও অন্য তদন্ত থেকে আপাতত রেহাই মিলছে না সন্দীপের।
সন্দীপ ঘোষ (Sandip Ghosh) আরজি করের অধ্যক্ষ থাকাকালীন হাসপাতালের আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। সরকারি অর্থের অপব্যবহার থেকে শুরু করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম—বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এমনকী, ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রেও কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সিবিআইয়ের তদন্তে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে আসে।
এই মামলার সূত্রেই সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সুমন হাজরাকেও গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ২০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেয়েছেন তিনিও। তবে জামিনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। নিয়মিত আদালতে হাজিরা, পাসপোর্ট জমা রাখা এবং কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সাক্ষীদের প্রভাবিত করাও নিষিদ্ধ।
গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর সন্দীপ ঘোষের সামনে আইনি পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হয়েছিল। কিন্তু ইডির সমান্তরাল তদন্তে নতুন করে হাজিরার নির্দেশে ফের চাপে পড়লেন তিনি। একদিকে সিবিআইয়ের তদন্ত, অন্যদিকে ইডির আর্থিক লেনদেনের হিসাব, সন্দীপ ঘোষের আইনি লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, বুধবারের তলবেই তা আরও একবার স্পষ্ট।


