Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: মামলার তদন্ত চলছে। এখনও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তার আগেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তদন্তাধীন মামলাকে কেন্দ্র করে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ (Media Trial) বন্ধের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেই আবেদন দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) শুনানির অপেক্ষায় থাকায় এবার হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। অভিষেকের আর্জি দ্রুত বিবেচনা করার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। সেখানে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী শোয়েব আলম।
সেপ্টেম্বর থেকে ঝুলে আবেদন, কী অভিযোগ আইনজীবীর?
শীর্ষ আদালতে আইনজীবী জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসেই এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন জমা দিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রোস্টার বা বিষয়ভিত্তিক এক্তিয়ারের মধ্যে আবেদনটি না থাকায় শুনানি সম্ভব হয়নি। এরপর অন্তত তিনবার আদালতের নজরে বিষয়টি আনার চেষ্টা করা হলেও কোনও শুনানি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য, এই বিলম্বের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে তদন্তাধীন মামলা নিয়ে নিয়মিত নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রতিবেদন অভিষেকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। একই সঙ্গে বিচার শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমের প্রচার যেন কাউকে জনতার আদালতে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আপত্তিকর খবর সরানোর দাবিও
আদালতে শোয়েব আলম যুক্তি দেন, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেই তাঁকে দোষী বলা যায় না। বিচার শেষ হওয়ার আগে নির্দোষ থাকার সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ইতিমধ্যে প্রকাশিত আপত্তিকর প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলা এবং সেগুলি ডাউনলোড বন্ধ করার নির্দেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান আইনজীবী।
১৬ নভেম্বরের পর পরবর্তী পদক্ষেপ
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ১৬ নভেম্বর উৎসবের ছুটি শেষে কলকাতা হাইকোর্ট খুললে অভিষেকের পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির জন্য বিষয়টি আদালতের নজরে আনা যাবে। পাশাপাশি, তাঁর অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আবেদনটি দ্রুত ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এখন দেখার, হাইকোর্টে এই আবেদনের শুনানি কবে হয় এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে কী অবস্থান নেয় আদালত।


