Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর অবশেষে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অনলাইন আবেদনপত্র ফর্ম ৬ (Form-6)-এ পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এবার থেকে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে থাকা ঘোষণাপত্র বা ডিক্ল্যারেশন আর একই নথির অংশ হিসেবে থাকবে না। সেটি আলাদা নথি হিসেবে জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, যেসব রাজ্যে বর্তমানে SIR প্রক্রিয়া চলছে, সেখানেও এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
এতদিন SIR চলাকালীন নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করার পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হত, তাঁর নিজের নাম কিংবা বাবা-মা অথবা দাদু-ঠাকুমার নাম আগের ভোটার তালিকায় ছিল কি না। কিন্তু এবার সেই পদ্ধতিতে বদল আনল কমিশন।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কমিশনের অন্দরেও আগে থেকেই মতবিরোধ ছিল বলে জানা গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন ফর্ম ৬-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র যুক্ত করার সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাঁধু এবং বিবেক যোশী। গত কয়েক মাসে কমিশনের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েও তাঁদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামাতেও এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, ২১ অক্টোবরই তাদের ইআর বিভাগ ফর্ম ৬ এবং ডিক্ল্যারেশনকে আলাদা নথি হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পাশাপাশি কমিশন জানায়, ফর্ম ৬-এর মূল কাঠামোতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে অনলাইনে আবেদন করার সময় ঘোষণাপত্রটি এমনভাবে দেখানো হচ্ছিল, যার ফলে আবেদনকারীদের মনে হচ্ছিল ফর্ম ৬-এ নতুন কিছু যোগ করা হয়েছে।
এই বিতর্কের শুরু ২০২৫ সালের জুন মাসে, বিহারে SIR প্রক্রিয়া চলার সময়। তখনই অনলাইন ফর্ম ৬-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র যুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে অন্যান্য রাজ্যে SIR শুরু হলেও ECNET পোর্টালে ফর্ম ৬-এর জে এবং কে বিভাগের মধ্যে ওই ঘোষণাপত্র দেখা যাচ্ছিল।
সেখানে আবেদনকারীদের তিনটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হত। প্রথম বিকল্পে জানাতে হত, আবেদনকারীর নিজের নাম পুরনো ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না। দ্বিতীয় বিকল্পে বাবা-মা কিংবা দাদু-ঠাকুমার নাম আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়টি জানাতে হত। আর তৃতীয় বিকল্পে জানাতে হত, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের উল্লিখিত কোনও সদস্যের নামই পুরনো ভোটার তালিকায় নেই।
এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলক হওয়ায় শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কীভাবে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে নতুন শর্ত যুক্ত করল নির্বাচন কমিশন? কারণ, নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিতর্কের পর ফর্ম ৬ এবং ঘোষণাপত্র আলাদা করার সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে SIR চলাকালীন নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ।


