Aaj lndia Desk, মুম্বাই: রাখিবন্ধন উপলক্ষে অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন (Kriti Sanon)-কে নিয়ে তৈরি একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজ্ঞাপনের পোশাক, উপস্থাপনা এবং পোষ্য কুকুরকে রাখি পরানোর দৃশ্য একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার জড়িয়ে পড়ে গায়ক সোনু নিগমের (Sonu Nigam)-নাম। তবে পরে জানা যায়, তাঁকে উদ্ধৃত করে যে মন্তব্য ছড়ানো হয়েছিল, সেটি তাঁর দেওয়া নয়।
বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছিল একটি পরিচিত গয়না সংস্থা, যার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কৃতি। প্রচারমূলক ভিডিওতে অভিনেত্রীকে সাদা রঙের ব্রালেট-ধাঁচের পোশাক, কেপ এবং স্কার্টে দেখা যায়। এই সাজ নিয়েই আপত্তি জানান সমালোচকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রাখির মতো পারিবারিক উৎসবকে সামনে রেখে তৈরি প্রচারে পোশাক ও দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে আরও ঐতিহ্যনির্ভর উপস্থাপনা থাকা উচিত ছিল। বিজ্ঞাপনে পোষ্যকে রাখি পরানোর বিষয়টিও অনেকের পছন্দ হয়নি।
ক্রমশ বিতর্ক তীব্র হওয়ায় বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের ৪২ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। পরে দেওয়া বিবৃতিতে তারা জানায়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন কৃতিও। তাঁর যুক্তি, একজন মহিলার পোশাক দেখে তাঁর মূল্যবোধ বা সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা বিচার করা ঠিক নয়। রাখি তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি রীতিনীতি নয়, ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং নিরাপত্তার প্রতীক। কৃতি নিজের বোনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু ভাইয়ের নয়, বোনেরাও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে নারীর ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার পক্ষে মত দেন রাহুল গান্ধীও।
এমন আবহেই সোনু নিগমের নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি নাকি কৃতির বিজ্ঞাপন নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘হিন্দুরা সহনশীল, তাঁদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।’ পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর গায়ককে নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক।
শেষ পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে সেই দাবির জবাব দেন সোনু। সেই স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি জানান, ওই বক্তব্য তাঁর নয়। অর্থাৎ, সোনু নিগমের নামে ছড়ানো মন্তব্যটি তাঁর নিজের অ্যাকাউন্ট বা বক্তব্য থেকে আসেনি। তাঁর এই স্পষ্টীকরণের পর ফের সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা। কোনও পরিচিত ব্যক্তির নাম বা ছবি ব্যবহার করে পোস্ট ভাইরাল হলেই সেটিকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া যে ঠিক নয়, এই ঘটনাও তারই উদাহরণ।


