কলকাতা: মঙ্গলবার রাতেও স্বামীর সঙ্গে কথা। বুধবার সকালেই আচমকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আর তারপর থেকেই নেপালের বিপর্যস্ত (Nepal Flash flood) পাহাড়ে নিখোঁজ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের (Mukul Roy) পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়।
কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২১ অগস্ট কলকাতার একটি খ্যাতনামা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ৩১ জন পর্যটক। জানা গিয়েছে, ওই পর্যটক দলের পাশাপাশি ভ্রমণ সংস্থার কয়েকজন কর্মীও বর্তমানে নেপালে আটকে রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার সকালে নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ জলস্রোত (Nepal Flash flood) নামার পর থেকেই শর্মিষ্ঠার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফোনেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, হড়পা বান যেখানে আছড়ে পড়েছিল, সেই এলাকা থেকে মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ছিলেন শর্মিষ্ঠা, বলে জানা গিয়েছে।
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা!
শর্মিষ্ঠার স্বামী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতেও স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই সময় মূলত ট্যুর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকেই আর কোনওভাবে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।
শুভ্রাংশুর কথায়, “শেষবার যখন কথা হয়, তখন ওদের ট্যুর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই আর কোনওভাবে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।” স্ত্রীর খোঁজে এখন একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করছে পরিবার। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি নবান্নের কাছেও সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
শুভ্রাংশু জানিয়েছেন, “স্ত্রীর খোঁজে আমরা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। পাশাপাশি সাহায্য চাওয়া হয়েছে নবান্নের কাছ থেকেও। তবে এখনও পর্যন্ত ওঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।”
একদিকে নেপালে চলছে ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash flood) ধ্বংসলীলা। অন্যদিকে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন শুভ্রাংশু ও পরিবারের সদস্যরা।
যে মানস সরোবর ছিল শর্মিষ্ঠার বহুদিনের স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের সফরই এখন পরিবারের কাছে পরিণত হয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। শেষ কথা হয়েছিল মঙ্গলবার রাতে। তারপর থেকে কোনও খোঁজ নেই। বিপর্যয়ের কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ছিলেন তিনি। এখন একটাই প্রশ্ন, কোথায় শর্মিষ্ঠা?


