Aaj lndia Desk,কলকাতা: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কতটা বড়। প্রবল জলস্রোতে বিপর্যস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালের ঘটনা থেকে ভারত, বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলির শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভূবিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ ডঃ সুজীব কর।
তাঁর মতে, এই ধরনের বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট। অর্থাৎ হিমবাহের কাছাকাছি তৈরি হওয়া কোনও হ্রদের জল হঠাৎ বাঁধ ভেঙে নীচের দিকে প্রবল গতিতে নেমে এলে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জলস্রোতের সঙ্গে বরফ, পাথর ও নুড়ি নেমে আসায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বহুগুণ বেড়ে যায়।
ডঃ সুজীব করের বক্তব্য, হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় এমন একাধিক গ্লেসিয়ার লেক রয়েছে, যেগুলির পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা প্রয়োজন। সিকিম, ভুটান ও অরুণাচল হিমালয়েও এই ধরনের জলাধার রয়েছে। তাই নেপালের একটি ঘটনার পর শুধু সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করলেই হবে না, প্রতিবেশী হিমালয় অঞ্চলের ঝুঁকিও নতুন করে খতিয়ে দেখা দরকার।
এই সতর্কতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গও। পাহাড়ি নদীর গতিপথ, নদীখাত এবং আশপাশের পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ। তিস্তা, রায়ডাক, সংকোষ ও জলঢাকার মতো নদীর ক্ষেত্রে বর্ষাকালে পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডঃ করের মতে, পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা তৈরি বা উন্নয়নমূলক কাজ করার সময় পরিবেশের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষাকালে অপ্রয়োজনীয় কম্পন কমানো, রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর নিয়মিত পরিদর্শন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নদীখাত দখল বা আটকে দিলে ভবিষ্যতে বিপদের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
২০২৩ সালের তিস্তা বিপর্যয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নদী ও পাহাড়ি এলাকার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। শুধু কংক্রিটের পরিকাঠামো বাড়ানো নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্থায়ী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় তাই বাংলার কাছেও আগাম সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


