Aaj India Desk, কলকাতা : নিউমার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (New Market Hotel Fire) পর গোটা লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। সেই তদন্তেই এবার উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, যে বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে সেখানে মোট ৪০টি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। এর বেশিরভাগই তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুরবোর্ডের সময়ে অনুমোদন পেয়েছে বলেও জানায় তদন্তকারীরা। এখন প্রশ্ন উঠছে, এতগুলি ব্যবসা চালানোর মতো পরিকাঠামো আদৌ ওই ভবনে ছিল কি না। লাইসেন্স দেওয়ার আগে পুরসভার আধিকারিকরা সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনলাইন লাইসেন্সে ‘সেলফ ডিক্লারেশন’
২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হয়। আবেদনকারীকে অনলাইনে ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ জমা দিয়ে লাইসেন্সের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ, এরপর অনেক ক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়াই লাইসেন্স বা পুনর্নবীকরণ হয়ে যেত। আগের ব্যবস্থায় ওয়ার্ডের ইনস্পেক্টররা ব্যবসাস্থলে গিয়ে পরিকাঠামো ও অন্যান্য বিষয় যাচাই করতেন। পরে অনিয়মের অভিযোগের জেরে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
ফায়ার সার্টিফিকেট নিয়েও অভিযোগ
অগ্নিকাণ্ডের (New Market Hotel Fire) তদন্তে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দাবি, নগদ দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের ‘ফায়ার সেফটি’ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। ‘ফায়ার লাইসেন্স’-এর জন্য আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।গত ১০-১২ বছরে ফায়ার সেফটি ও ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা দমকল আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের (New Market Hotel Fire) পর নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি বেআইনি হোটেল চিহ্নিত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে সেগুলির বিরুদ্ধে বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ড তাই শুধু একটি হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নে আটকে নেই। ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট এবং নিয়মিত পরিদর্শনের গোটা ব্যবস্থাই এখন তদন্তের আওতায়।


