কাঠমান্ডু: প্রকৃতির ভয়ংকর রোষে যখন মৃত্যু আর ধ্বংসের মিছিল, তখন সেই বিপর্যয়ের মাঝেই কারও কারও চোখে যেন খুলে গিয়েছে ‘ফ্রি শপিং’-এর দরজা। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash flood) পর নদীর স্রোতে ভেসে আসা গ্যাস সিলিন্ডার, কাঠের সামগ্রী, ঘরবাড়ির অংশ-সহ নানা জিনিসপত্র কুড়িয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। সেই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
কেউ লিখেছেন, ‘মানুষের মানবিকতা যে কতখানি নিচে নেমে গিয়েছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এটি।’ অন্য একজনের ক্ষোভ, ‘শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অথচ এরা তাঁদের জিনিসপত্র লুট করে বিজয় হাসি হাসছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে?’ কারও আবার সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘বিপদে সুযোগ।’
জানা গিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলির বেশিরভাগই নেপাল-বিহার সীমান্তবর্তী এলাকার। উপর দিক থেকে বন্যার স্রোতে (Nepal Flash flood) ভেসে আসা নানা সামগ্রী এসে জমা হচ্ছে এইসব এলাকায়। আর সেখানেই চলছে তা কুড়িয়ে নেওয়ার হুড়োহুড়ি।
ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দেয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান। গত বুধবার সকালে ভোটেকোশী নদীর ভয়ংকর হড়পা বানে (Nepal Flash flood) তছনছ হয়ে যায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। এখনও পর্যন্ত বিপর্যয়ে ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ৭৫০ জন, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয়।
ভোটেকোশী নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের পর এটি সুনকোশী নদীর সঙ্গে মিশে যায়। পরে সপ্তকোশী নদী হয়ে প্রবেশ করে ভারতের বিহারে। ফলে নেপালের বিপর্যয়ের ধাক্কায় ভেসে আসা সামগ্রীও পৌঁছে যাচ্ছে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বিভিন্ন এলাকায়।
একদিকে স্বজন হারানোর কান্না, অন্যদিকে সেই বিপর্যয়ের স্রোতে ভেসে আসা জিনিসপত্র নিয়ে কুড়িয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা! সব মিলিয়ে যেন সত্যিই সেই প্রবাদটির নির্মম বাস্তবায়ন: কারও পৌষমাস, তো কারও সর্বনাশ!


