ঢাকা: ২ বছর পর হাসিনা (Sheikh Hasina) দেশে ফেরার ঘোষণা করতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও দিল্লি থেকে হাসিনার ভার্চুয়াল বার্তার সম্প্রসারণ নিষিদ্ধ করেছিল ঢাকা। এমনকি ওই অনুষ্ঠানের জন্য দিল্লিকে কটাক্ষও করে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক।
তবে দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই আওয়ামী লিগকে (Awami League) নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)-র এক সাংসদ। হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগকে নিজেদের দলের ‘শত্রু’ নয়, বরং ‘মিত্র’ বলে দাবি করেছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের BNP সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ঢাকার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একটি দলীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময় নাসির উদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লিগের সঙ্গে ভবিষ্যতে BNP-র সম্পর্কের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই দল একসঙ্গে লড়াই করেছিল এবং ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ BNP-র সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
কী বলেছেন BNP সাংসদ?
বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেরাই উপজেলা ও পৌরসভা BNP-র উদ্যোগে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন নাসির উদ্দিন চৌধুরী। সভাটির বিষয় ছিল ‘গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছরের নিরলস সংগ্রাম এবং রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থান’। সেখানেই আওয়ামী লিগ (Awami League) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লিগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, আওয়ামী লিগ BNP-র শত্রু নয়, বরং মিত্র। এরপর আরও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। নাসির উদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লিগ শীঘ্রই BNP-র সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ?
নাসির উদ্দিন চৌধুরীর মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লিগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) নেতৃত্বাধীন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরিস্থিতিতে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা চলছে।
এই আবহে BNP-র একজন সাংসদের মুখে আওয়ামী লিগকে (Awami League) ‘মিত্র’ বলা এবং ভবিষ্যতে দুই দলের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এটি BNP-র আনুষ্ঠানিক দলীয় অবস্থান কি না, তা স্পষ্ট নয়। একজন সাংসদের বক্তব্যকে সরাসরি দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। ফলে তাঁর মন্তব্যের পর BNP-র শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
হাসিনার (Sheikh Hasina) বক্তব্যের পরেই কেন এমন মন্তব্য?
দিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই BNP সাংসদের এই মন্তব্য সামনে এসেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক একজন সাংসদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ, নাকি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভবিষ্যতের কোনও সম্ভাব্য সমীকরণের আভাস?
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী যে বার্তা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনার কথাও জুড়ে দিয়েছেন তিনি। তাহলে এতদিনের রাজনৈতিক বিরোধের পর সত্যিই কি আওয়ামী লিগ ও BNP-র মধ্যে নতুন কোনও সেতু তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, নাকি এটি শুধুই এক সাংসদের বিচ্ছিন্ন মন্তব্য?


