Aaj India Desk, কলকাতা : সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ ছিল। তার ছ’মিনিট আগেই, সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে ভবানী ভবনে CID দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। শালবনির জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছিল CID। কালো গাড়িতে ভবানী ভবনে পৌঁছলেও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি তিনি।
CID নোটিসের পরেই ভবানী ভবনে
শুক্রবার সুমিত রায়ের (Sumit Roy) নিউ আলিপুরের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে শনিবার সকাল ১০টায় ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার আগের রাতেও তাঁর ক্যানাল রোডের বাড়িতে CID নোটিস পৌঁছে দিয়েছিল বলে জানা যায়। নির্ধারিত সময়ের ঠিক ছ’মিনিট আগে CID দফতরে পৌঁছন সুমিত। তাঁকে ঘিরে সকাল থেকেই জল্পনা ছিল, তিনি আদৌ হাজির হবেন কি না। শেষ পর্যন্ত নিজেই তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন তিনি।
একাধিক মামলায় নাম
শালবনি থানায় দায়ের হওয়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে সুমিত রায়ের (Sumit Roy) নাম সামনে আসে। এরপর তাঁকে খুঁজতে তৎপর হয় পুলিশ। তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালিঘাটের বাসভবনেও গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়ির দরজা-তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের কোনও সন্ধান মেলেনি বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।
তবে CID দফতরে হাজিরা দিলেই সুমিত রায়ের আইনি জটিলতা পুরোপুরি কাটছে না। তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে এবং আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য তাঁর আইনজীবীরা আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দেয়, মামলাটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই শোনা হবে। এখন ভবানী ভবনে সুমিত রায়কে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তদন্তে তাঁর কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে CID কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর।


