Aaj India Desk, কলকাতা : সল্টলেকের সুকান্তনগরের একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে এবার উঠলো তোলাবাজি, জমি দখলের চেষ্টা এবং নাবালিকাদের দিয়ে অনৈতিক কাজ চালানোর অভিযোগ। ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত সায়ন দে (Sayan Dey) সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সুকান্তনগরের ওই গেস্ট হাউসটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গেস্ট হাউসটিতে নানা ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ তাঁরা আগেও পুলিশকে জানিয়েছিলেন।অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি এবং জমি দখলের চেষ্টাও। এক স্থানীয় প্রোমোটারের কাছ থেকেও গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে টাকা চাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
সরকার পরিবর্তনের পর গেস্ট হাউস সংক্রান্ত অভিযোগগুলি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। শুক্রবার SIT-এর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। তল্লাশির সময় গেস্ট হাউস থেকে কয়েকজন তরুণী ও নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য নথিভুক্ত করেন। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গেস্ট হাউস পরিচালনা এবং সেখানে কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সায়ন দে (Sayan Dey) এবং অনির্বাণ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।তদন্তকারীদের নজরে এসেছে সায়ন দে-র সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও। দু’জনের একাধিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে রয়েছে। এমনকি সায়নের বিয়ের অনুষ্ঠানেও সুজিত বসু উপস্থিত ছিলেন। তবে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকা বা ব্যক্তিগত পরিচয় থাকা নিজে থেকে কোনও অপরাধের প্রমাণ নয়। ফলে সায়ন ওই পরিচয়কে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন কি না, কিংবা গেস্ট হাউস সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী, তা তদন্ত করে দেখছেন আধিকারিকরা।
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিধাননগর মণ্ডল ২-এর বিজেপি সহ-সভাপতি শান্তনু সরকার। তাঁর দাবি, বেআইনি কাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। সেই কারণেই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া সায়ন দে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বর্তমানে জেলে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। সায়ন দের (Sayan Dey) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তদন্তে উঠে এলেও, এই ঘটনায় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে কোনও নতুন অভিযোগ বা সরাসরি আইনি পদক্ষেপের কথা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। গেস্ট হাউসটি কীভাবে পরিচালিত হত, সেখানে কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের পিছনে আর কারা ছিলেন, তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে কারা যুক্ত এবং নাবালিকাদের সেখানে কীভাবে আনা হয়েছিল, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে SIT। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


