কলকাতা: ছাব্বিশের ক্ষমতার পালাবদলের পর জনসমক্ষে তেমন দেখা যায়নি তাঁকে। হারের পর একঝাঁক বিদ্রোহী এনডিএ শরীক হলেও প্রতীক-উরের (Pratik-ur Rahman) পরবর্তী পরক্ষেপ নিয়ে চলছিল জল্পনা। কেননা, নির্বাচনের ঠিক আগে অভিষেক বন্দপাধ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসেন তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁকে দেখা যায় কালো কোট পরে পুরনো পেশায় ফিরতে। দলীয় পতাকা ছেড়ে প্রতীককে আদালতে সওয়াল-জবাব করতে দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ট্রোলের ঝড়!
সেই কটাক্ষ এবং ট্রোলিং-এরই এবার জবাব দিলেন প্রতীক-উর রহমান। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ক্যামেরার সামনে দেখা না গেলেই কি রাজনীতিতে নেই?” শুধু তাই নয়, তিনি (Pratik-ur Rahman) আরও বলেন, “আমি রাজনীতিকে ক্যারিয়ার করতে আসিনি। কালো কোটটাকেই পেশা বানাতে এসেছি। যখন সিপিএম-এ ছিলাম, তখন হোলটাইমার ছিলাম, তাই প্র্যাক্টিস করতে পারিনি। আর তৃণমূলে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণে সম্ভব হয়নি।” এরপর ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে কুছ তো লোগ কহেঙ্গে। ওতে কিছু যায় আসে না”।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন প্রতীক উর রহমান (Pratik-ur Rahman)। পরের বছর অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন। তবে সেই সময় আইনজীবী হিসেবে পেশা শুরু না করে সক্রিয় রাজনীতির পথেই ছিলেন তিনি। সিপিএমের হোলটাইমার হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। পরে দলের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।
প্রতীক উরের (Pratik-ur Rahman) বক্তব্য, নির্বাচনের পর থেকেই তিনি পাকাপাকিভাবে হাইকোর্টে আসছেন। একইসঙ্গে রাজনীতিও করছেন। তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোনও দলে যাওয়ার প্রশ্নও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও রয়েছে। এর আগে হাইকোর্টে দাঁড়িয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন প্রতীক-উর।
তাঁর বক্তব্য, বিজেপি যে ভাবে সরকার চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে শুধু রাস্তায় আন্দোলন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আইনি লড়াইও। প্রতীক উরের কথায়, “রাস্তার লড়াই যেমন প্রয়োজন, তেমন তার থেকেও বেশি প্রয়োজন আইনি লড়াই।” সেই তাগিদ থেকেই আইনজীবী পেশায় আসার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি (Pratik-ur Rahman)।


