Aaj India Desk, মুম্বই : টলিউডের ব্যান কালচার (Ban Culture) নতুন কিছু নয়। বরং সেই ব্যান কালচার থামাতে তৎপর হয়েছে বঙ্গের নব্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার। কিন্তু টলিউডের শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ব্যান কালচারের সেই ভাইরাস ঢুকলো বলিউডে। সম্প্রতি ধুরন্ধর সিনেমার দৌলতে একই সাথে সিনেমা প্রেমীদের এবং রাজনৈতিক মহলের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন রণবীর সিং। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বলিউড ব্যান কালচারের (Ban Culture) শিকার হলেন তিনি।
বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ‘নন-কোঅপারেশন’ নির্দেশ জারি করেছে FWICE। এটি কোনও সরকারি বা আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়। তবে সংগঠনের সদস্যদের রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও তাঁকে না নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
কেনো ব্যান করা হচ্ছে রণবীর কে ?
রণবীর সিং শেষ মুহূর্তে ডন ৩ ছবি থেকে সরে দাঁড়ান। ছবিটির পরিচালক ফারহান আখতার এবং প্রযোজনা সংস্থা এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট জানায়, শুটিং শুরুর ঠিক আগে রণবীর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় তাদের। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, সেট নির্মাণ, টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রি-প্রোডাকশন প্রস্তুতিতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এরপরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য FWICE একাধিকবার অভিনেতাকে নোটিস পাঠিয়েছিল। তবে তিনি সরাসরি হাজির হননি। এরপরই সংগঠনটি তাদের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে কাজ না করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে।
রণবীরের প্রতিক্রিয়া কি ?
স্ক্রিপ্ট পরিবর্তনের কারণেই ডন ৩ ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন রণবীর সিং। তাঁকে ব্যান করার কথা ঘোষণা করার পরেও রণবীরের টিমের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে তিনি ডন ৩ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং এর সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি “গভীর শ্রদ্ধা” রাখেন বলে জানিয়েছেন।
কতটা প্রভাব ফেলতে পারে FWICE বিতর্ক?
FWICE-এর আওতায় বিপুল সংখ্যক টেকনিশিয়ান, লাইটম্যান, মেকআপ আর্টিস্ট, জুনিয়র আর্টিস্ট ও কর্মী রয়েছেন। ফলে বড় বাজেটের ছবির শুটিংয়ে সমন্বয় সমস্যা তৈরি হতে পারে। কোনও প্রযোজনা সংস্থা তাঁকে কাস্ট করতে চাইলে বিকল্প কর্মী জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একাধিক স্টুডিও ও ইউনিট FWICE-নির্ভর হওয়ায় প্রজেক্টের সময়সূচি ও খরচ বাড়ার আশঙ্কাও থাকছে। ফলে সহজে রণবীরকে কেউ কাস্ট করতে চাইবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ (Ban Culture) বা অঘোষিত বয়কট রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজের স্বাধীনতা বজায় রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। ঠিক সেই সময়েই বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে চালু হয়ে গেলো ব্যান কালচার। ফলে ভারতের দুই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ভিন্ন অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


