কলকাতা: দল, প্রতীক, তহবিলের পাশাপাশি ২১ জুলাই (21 July) শহীদ দিবস উদযাপন নিয়েও দুই তৃণমূলের মধ্যে চলছে দড়ি টানাটানি। আগেই ‘কালীঘাট’ এবং ‘ঋতব্রত’-দের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ধর্মতলা সহ মধ্য কলকাতায় বিস্তীর্ণ অংশে ১৬৩ নম্বর ধারা জারি করেছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ এই ৬০ দিন ওই এলাকায় ৫ জনের বেশি জমায়েত, সভা, ধরনা, বিক্ষোভ কর্মসূচি বা মিছিল করা যাবে না।
এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat TMC)। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের (21 July) সভা করতে চেয়ে শুক্রবার উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করলেন কালীঘাট শিবিরের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।
আদালতে কালীঘাট তৃণমূলের (Kalighat TMC) দাবি, তারা নিয়ম মেনে কলকাতা পুলিশের কাছে ২১ জুলাই (21 July) সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও উত্তর মেলেনি। প্রশাসনের নীরবতার জেরেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ পক্ষ।
এই আবহেই গত শনিবার ফেসবুক লাইভে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেখানেই হোক, একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান বন্ধ হবে না। মমতার কথায়, পুলিশ অনুমতি না দিলেও শহিদ দিবস পালন করা হবেই। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কর্মসূচি আটকে দিতেই মধ্য কলকাতায় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে রিকশার ওপর দাঁড়িয়েও শহিদ দিবস পালন করবেন।
অন্যদিকে, বিকল্প জায়গার কথা জানাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন ঋতব্রতপন্থীরা। এখন দেখার, ছাব্বিশের ভোটে পরাজয়, দলে ভাঙনের পর তৃণমূলের ‘মেগা ইভেন্ট’ ২১ শে জুলাই (21 July) আদৌ কোথায়, কীভাবে পালিত হয়।


