Aaj India Desk, কলকাতা: একের পর এক বেআইনি নির্মাণে (Illegal Construction) নোটিস পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়। মাথার উপর ছাদ হারানোর ভয়ে এবার কলকাতা পুরসভার (KMC) বিল্ডিং বিভাগের হিয়ারিং সেকশনে ভিড় জমালেন বহু ফ্ল্যাটবাসী। সম্প্রতি বেলেঘাটা-সহ শহরের প্রায় ছ’টি জায়গায় রবিবার বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপর থেকেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অভিযোগ উঠেছে, দুষ্কৃতী তথা প্রোমোটার রাজু নস্কর (Raju Naskar)-এর তৈরি একাধিক আবাসন নিয়ম না মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সব ফ্ল্যাট কিনে কেউ চার বছর, কেউ পাঁচ বছর, আবার কেউ মাত্র এক বছর আগে থেকে বসবাসও শুরু করে দিয়েছেন। এখন সেই বাড়িগুলিতে পুরসভার নোটিস পৌঁছতেই চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাসিন্দাদের।
এদিন হিয়ারিং সেকশনে এসে বহু বাসিন্দা পুর কর্তাদের কাছে আবেদন জানান, যাঁরা বেআইনি কাজ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, জরিমানা করা হোক, কিন্তু সাধারণ মানুষের থাকার জায়গা যেন ভেঙে না দেওয়া হয়। তাঁদের কথায়, “আমরা সব টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছি। এখন যদি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
যদিও, পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১২টি নোটিস পাওয়া আবাসনের বাসিন্দারা এদিন শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। বাসিন্দা শাওনা ঘোষ জানান, তাঁদের বাড়িতেও নোটিস এসেছে। তাঁর মা ওই বাড়িতে থাকেন। ফলে গোটা পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, জমি তাঁদের ছিল, আর প্রোমোটার ছিলেন রাজু নস্কর।
অন্য এক বাসিন্দা সুব্রত বিশ্বাস বলেন, “এখন আমরা খুব সমস্যার মধ্যে পড়েছি। জমির মালিক তো আমরাই। আগে বুঝতেই পারিনি যে কোনও আইনি জটিলতা আছে।”
শহর ও শহরতলিতে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বর্তমানে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি পরিচালিত প্রশাসন। অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা হলেও অনেক জায়গায় নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়নি। এরপরই পুলিশ মোতায়েন করে পুরসভা বেআইনি বহুতল ও অবৈধ দখলদারি ভাঙার অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে বড় বড় বুলডোজার। প্রশাসনের দাবি, অনেক জায়গায় জলাশয় ভরাট করে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারণেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


