Aaj India Desk, দার্জিলিং : ৪ই মের পর থেকেই একের পর এক খারাপ ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিজ পদ খোয়ানোর পর দলের মধ্যে ভাঙন, অভিষেকের নামে পুরসভার নোটিসে এমনিতেই খানিক অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। এবার সরাসরি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অতীতে তাঁর কিছু মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায়।
কী অভিযোগ করা হয়েছে ?
জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিংহ অভিযোগ করেন যে ২০২৫ সালে কলকাতার রেড রোডে ঈদ-উল-ফিতরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সনাতন ধর্মকে “গন্দা ধর্ম” বা “নোংরা ধর্ম” বলে উল্লেখ করেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্য হিন্দু ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক, ধর্মীয় উসকানি এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করতে পারে।
কোন কোন ধারার উল্লেখ ?
লিখিত অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় আইনি পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিমিনাল ইনটিমিডেশন, জনশান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমানজনক মন্তব্য, পাবলিক মিসচিফ, মানহানি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত সংক্রান্ত ধারা। রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিংহের আবেদন, বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বাস্তবে কী বলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ?
২০২৫ সালে কলকাতার রেড রোডে ঈদ-উল-ফিতরের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছিলেন, “আমি রামকৃষ্ণের ধর্ম ও স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম মানি।” এরপর তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বিজেপি একটি “জুমলা পার্টি” এবং তারা এমন এক “গন্দা ধর্ম” বা “নোংরা ধর্ম” তৈরি করেছে যা প্রকৃত হিন্দু ধর্মের বিরোধী। প্রকৃতপক্ষে সেই ভাষণে কোথাও তিনি হিন্দু ধর্মের কথা বলেননি, বরং বিজেপির রাজনৈতিক ব্যবহার ও ধর্মীয় মেরুকরণের সমালোচনা করেছিলেন।
তবে বিরোধী শিবির ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য আলাদা। তাঁদের দাবি, ভাষণের শব্দচয়ন এমন ছিল যাতে হিন্দু ও সনাতন ধর্মকে অপমান করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


