Aaj lndia Desk,কলকাতা: দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল দুই বিনুনিওয়ালা এক কিশোরী। পরনে সাদা স্কুলড্রেস। সে তাকিয়ে ছিল পাশের বাড়ির গেটের দিকে।কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে বেরোল এক কিশোর। তার পরনেও স্কুলের সাদা পোশাক। সঙ্গে ছিলেন তার মা। বেরোনোর সময় ছেলেটি একবার তাকাল বারান্দার দিকে। মেয়েটিও তাকিয়ে। দুজনের চোখাচোখি হতেই যেন মুহূর্তটা থমকে গেল সব।
হঠাৎ ছেলেটির মা ধমক দিয়ে বললেন, “কাকে দেখছিস?”লজ্জায় মেয়েটি দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেল। আর ছেলেটি মাথা নিচু করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল।সোমবার ভোর থেকেই বেহালার বীরেন রায় রোডে ছিল অন্যরকম উত্তেজনা।কারণ, সৌরভ গাঙ্গুলি (Sourav Ganguly)-র জীবনী নিয়ে ছবি দাদার শুটিং শুরু হয়েছে তাঁরই বাড়িতে।
ছেলেবেলার সৌরভ-ডোনার দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রতিবেশী মনোমিতা মুখোপাধ্যায়। শুধু তিনিই নন, গোটা পাড়াতেই ছিল নস্টালজিয়ার আবহ।
পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে (Vikramaditya Motwane)সকাল থেকেই টিম নিয়ে শুটিংয়ে ব্যস্ত। তিনি নিজেই শিল্পীদের দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন এবং ক্যামেরায় শট ও নিচ্ছেন।প্রতিবেশীর কথায়,”যে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হতে দেখলেন, ওটা সৌরভ-ডোনার ছেলেবেলার প্রেমের সময়। সদ্য বিয়ে করে এ পাড়ায় এসেছি তখন। শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের দারুণ হৃদ্যতা। সৌরভের আমি বৌদি। ডোনার কাকিমা!”
সাল ১৯৮৯। সৌরভ তখন একাদশ শ্রেণি। ডোনা নবম। প্রেমের শুরু তখনই। মনোমিতার বলেন, পরিচালক তাঁদের নব্বইয়ের দশক ফিরিয়ে দিয়েছেন। ওই ভাবেই দেখা করতেন ওঁরা। মনোমিতার চিকিৎসক স্বামী নাকি ছিলেন চিঠির বাহক! সৌরভ তখন রঞ্জি খেলেন। মা নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায় এ ভাবেই ছেলেকে এগিয়ে দিতে আসতেন। দেখতে দেখতে সেই ছেলে কত বড়।
নব্বইয়ের স্মৃতিকে যেন আরও জীবন্ত করে তুললেন অপরাজিতা (Aparajita Adhya)। লাল পাড় সাদা শাড়ি, লম্বা বিনুনি আর কপালে বড় সিঁদুরের টিপে তাঁকে দেখে যেন পুরনো কলকাতার গৃহবধূই মনে হচ্ছিল। একের পর এক শটে তিনি কখনও ছেলেকে বকছেন, কখনও পাশের বাড়ির মেয়ের সঙ্গে প্রেম নিয়ে কড়া ধমক দিচ্ছেন। দৃশ্য শেষ হলেই পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা, আর পরিচালকও মাথা নেড়ে ওকে বলতেই মুখে ফুটে উঠছে স্বস্তির হাসি।
এদিকে সকাল গড়াতেই ব্যস্ত হয়ে উঠছে বেহালা চৌরাস্তা। মা মঙ্গলচণ্ডী ভবন এর বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশ। তবে তাঁরা সত্যিই পুলিশ, নাকি শুটিংয়ের অংশ বোঝা দায়! রাস্তার ধারে সাজানো হয়েছে নকল সবজির দোকান, বানানো হয়েছে চায়ের স্টলও। প্রতিটি শটের পর পরিচালক নিজেই এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে দেখে নিচ্ছেন সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না।


