কলকাতা: বারুইপুরের নাবালিকা অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের (Baruipur rape and murder) ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারী বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতনের সময় নাবালিকার উপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের দাবি, নাবালিকার ঘাড় ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছিল। সেই আঘাতের জেরেই তাঁর মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং ঘাড়েও গুরুতর চোট লাগে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সিট (SIT) সূত্রের দাবি, ধৃত আনন্দ সর্দার ও দিবাকর জেরায় জানিয়েছে, ধর্ষণের পর নাবালিকাকে একাধিকবার মাটিতে আছাড় মারা হয় (Baruipur rape and murder)। তদন্তকারীরা এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জেরা, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলিয়ে দেখছেন। এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিচারিকভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই ঘটনায় ধৃতদের পাশাপাশি প্রভাস মণ্ডল ও কবির মোল্লারও ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সিট। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
ফরেনসিক তদন্তেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে নাবালিকার (Baruipur rape and murder) চুল, নখ-সহ একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
সেই ফুটেজের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের গতিবিধি, ঘটনাক্রম এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারী সংস্থার আশা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।


