কলকাতা: বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের পর এলাকায় যারা বিক্ষোভ-ভাঙচুর-গণপিটুনির ঘটনায় (Baruipur Violence) জড়িত ছিল, তাঁদের কাউকে ‘রেয়াত করা হবে না’ বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই শুরু হয় অশান্তির ঘটনায় জড়িতদের ধরপাকড়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনকে আটক করে জেরা করা হয়। শুক্রবার পুলিশ, এসটিএফ এবং স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন আরও ৫ জন, বলে সূত্রের খবর। শনিবার ফের বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় আরও ধরপাকড় চলছে এবং গ্রেফতারির সংখ্যাটা আগামীদিনে আরও বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নাবালিকার বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধারের পর দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। রেল-সড়ক অবরোধ, মৃতদেহ নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ, রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা (Baruipur Violence) । ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামক এক যুবককে অভিযুক্ত সন্দেহে পিটিয়ে মারে উত্তেজিত জনতা।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বারুইপুরে অশান্তির নেপথ্যে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির হাত রয়েছে। শুধু তাই নয়, গণপিটুনিতে মৃত যুবক ইন্দ্রজিৎ তাঁতি ‘নির্দোষ’ বলে দাবী করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, গোটা ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন তিনি।
অন্যদিকে, পাড়ার মেয়ের গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন, বলে দাবী স্থানীয়দের। কিন্তু বর্তমানে অশান্তির (Baruipur Violence) ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রতিদিন পুলিশের জেরায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ওই এলাকাও বর্তমানে থমথমে। বাজার-দোকান অনেকাংশেই বন্ধ। হাতে গোনা জে কয়েকটি দোকান খুলছে তাতেও বিকিকিনি প্রায় নেই বলেই দাবী দোকানীদের। এলাকার পুরুষরাও আতঙ্কে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
পাশাপাশি ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি শুভেন্দু অধিকারীর দাবী সত্যি করে বারুইপুরে অশান্তির (Baruipur Violence) ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা সত্যিই বেড়ে ২০০-তে পৌঁছবে?


