Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দলের বিধায়কদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আর শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাইছে না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। উল্টে সোমবার নিউটাউনে দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে ভাষণ রাখতে গিয়ে বিজেপি বিধায়কদের তোলাবাজির অভিযোগগুলিকে সামনে রেখে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের নাম ব্যবহার করে তোলাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব খাটানো বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে দল কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) বক্তব্য, ” দীর্ঘ লড়াই ও প্রচুর ত্যাগের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সেই ক্ষমতা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার অধিকার কোনও জনপ্রতিনিধির নেই। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে দেব না।” তিনি বলেন, “বিধায়কদের একাংশ নিজেদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা ক্ষমতার জোরেই নির্বাচিত হয়েছেন বলে মনে করতে পারেন, কিন্তু একজন বিধায়কের জয়ের পিছনে দলের সংগঠন, কর্মীদের পরিশ্রম এবং বহু মানুষের অবদান রয়েছে।” তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দায়িত্ব এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে রাখতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।
এছাড়া সম্প্রতি একাধিক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আসা এই অভিযোগগুলির কথা তুলে ধরেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, তিনি উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, দমদম থেকে নিউটাউন, বিভিন্ন জায়গা থেকেই অভিযোগ পেয়েছেন। এরপরেই বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন শমীক। তাঁর দাবি, কোনও কোনও বিধায়ক ‘ফিতে নিয়ে ফ্ল্যাট মাপতে’ পর্যন্ত ছুটছেন। এই ধরনের আচরণ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলেও জানান তিনি।
শমীক ভট্টাচার্য জানান এরপর বিধায়কদের তোলাবাজি নিয়ে অভিযোগ পেলেই দল কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, “শুধু বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বলেই কেউ নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবেন না। দলের স্বার্থ এবং ভাবমূর্তি রক্ষায় যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে ২০ জন বিজেপি বিধায়ককে দল থেকে বাদ দেওয়া হলেও তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না। এই বক্তব্যকে সমর্থন করেই শমীক জানান, বিধায়ক পদ কোনও ‘অভেদ্য সুরক্ষা-কবচ’ নয়। তবে নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে শমীক ভট্টাচার্যের বার্তা তাঁর দলের বিধায়কদের কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেটাই এখন দেখার।


