Aaj India Desk , কলকাতা: নবান্নের (Nabanna) মতো রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরে ঢুকে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। শুধু পরিচয় দেওয়াই নয়, পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের কাছ থেকে বেশ কিছু প্রশাসনিক তথ্য জানার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কথাবার্তার মধ্যেই তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরিস্থিতি আঁচ করে দ্রুত নবান্ন থেকে বেরিয়ে যান ওই মহিলা। এরপরই শুরু হয় পুলিশের তৎপরতা।
অভিযুক্ত মহিলার নাম আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী (Akanksha Vidyarthi)। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার (Wednesday) আগে থেকেই সাক্ষাতের সময় নিয়ে নবান্নে পৌঁছন তিনি। এরপর পূর্ত দফতরের (Public Works Department) আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে নিজেকে PMO-র আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান আকাঙ্ক্ষা।
তবে তাঁর কথাবার্তা এবং আচরণে সন্দেহ তৈরি হয় আধিকারিকদের একাংশের। পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করতেই পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত নবান্ন ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর তাঁর দেওয়া পরিচয় খতিয়ে দেখা হয়। তখনই ভুয়ো পরিচয়ের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগ পেয়েই তদন্তে হাওড়া পুলিশ
ঘটনার পর নবান্নের পূর্ত দফতরের তরফে হাওড়া সিটি পুলিশের (Howrah City Police) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল তৈরি করা হয়। বুধবার রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় খোঁজখবর।
তদন্তকারীরা প্রযুক্তিগত নজরদারির সাহায্যে আকাঙ্ক্ষার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পান। সেই সূত্র ধরেই দিল্লিতে (Delhi) তাঁর সন্ধান মেলে বলে জানা যাচ্ছে। এরপর হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ দল দিল্লিতে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
তবে এখনও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কেন নবান্নে এসেছিলেন আকাঙ্ক্ষা? ঠিক কোন ধরনের প্রশাসনিক তথ্য তিনি সংগ্রহ করতে চাইছিলেন? PMO-র পরিচয় ব্যবহারের নেপথ্যে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি এই ঘটনায় কোনও আন্তঃরাজ্য চক্রের (Inter-State Racket) যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


