Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের মুখে উল্টো সুর মুখ্যমন্ত্রীর গলায়! একদিকে উপনির্বাচনের প্রচারে রেজিনগরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বার্তা, “হিন্দু-মুসলিম করবেন না”, অন্যদিকে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই নন্দীগ্রামের সভা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশ্য তাঁর ‘পরীক্ষা’ এবং ‘সুযোগ’-এর মন্তব্য। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে শুভেন্দুর দুই বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। রেজিনগরে এবার তিনি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি না করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নন্দীগ্রামে কী বলেছিলেন শুভেন্দু?
গত ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রামের সভা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেছিলেন, ৬ অক্টোবর তাঁদের ‘পরীক্ষা’। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে এবং সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চাইলে সেই সুযোগ এসেছে। পরীক্ষায় ‘পাশ’ করবেন, না ‘ফেল’ তা ভোটারদের উপরেই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধীদের একাংশ সমালোচনা করে। তবে সেই সময় শুভেন্দু নিজেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের দাবি করেছিলেন।
রেজিনগরে বদলাল বার্তার সুর?
১ অক্টোবর রেজিনগরের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা সামনে রাখেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের প্রশ্নে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “৭০-৩০ শতাংশের গল্প শোনাবেন না। হিন্দু-মুসলিম করবেন না।” একই সঙ্গে রেজিনগরকে ফলতার মতো ‘মডেল বিধানসভা’ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। শুধু সাম্প্রদায়িক বিভাজন না করার বার্তাই নয়, সংখ্যালঘু মহিলাদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং আয়ুষ্মান-সহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবায় ভেদাভেদ না করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উন্নয়নেই জোর, সঙ্গে একাধিক প্রতিশ্রুতি
রেজিনগরের প্রচারে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো, কর্মসংস্থান, হাসপাতাল, কলেজ এবং শিল্পতালুক তৈরির কথাও বলেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বাইরে কাজ করা প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে দুই বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ছয় মাস ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।রেজিনগরে শিল্পতালুক তৈরির বিষয়েও সময়সীমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দেড় বছরের মধ্যে সেখানে কারখানা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র তৈরির কথাও বলেছেন তিনি।
রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, রাজ্যে আগের শাসকদলের আর ‘নাম-নিশান’ নেই এবং বর্তমানে দুটি তৃণমূল রয়েছে।
নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘পরীক্ষা’র কথা বলা থেকে রেজিনগরে “হিন্দু-মুসলিম করবেন না”র বার্তা ভোটের প্রচারে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে। এখন নজর ৬ অক্টোবরের ভোটে। রেজিনগরের ভোটারদের কাছে উন্নয়ন ও সমন্বয়ের এই বার্তা কীভাবে প্রতিফলিত হয় সেটাই এখন দেখার।


