Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের উল্লেখ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ED-র দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। ইন্দ্রনীল সেন ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বলেও জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
মাসআর্টের ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরেই তদন্ত
ED-র দাবি, ‘মাসআর্ট’ সোসাইটির মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংস্থার বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপে প্রবেশের জন্য টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। টিকিটের দাম ছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত।
দু’বছরে এক লক্ষের বেশি টিকিট
ED জানিয়েছে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মাসআর্টের ‘প্রিভিউ শো’-এর এক লক্ষের বেশি টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, টিকিট বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থের একাংশ নগদে তুলে নেওয়া হয় এবং কিছু অর্থ বিভিন্ন খরচের নামে সরানো হয়।
৮৫ কোটির বেশি সরকারি টেন্ডারের দাবি
তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রিত্বকালের সরকারি টেন্ডারের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ED। সংস্থার দাবি, পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার এমন কয়েকটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, যেগুলির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের যোগ রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ED-র আরও দাবি, ওই সংস্থাগুলি থেকে পরবর্তী সময়ে ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ টাকা তোলার তথ্যও তদন্তে মিলেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ED-র দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত অক্টেভ রেকর্ডসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মন্ত্রিত্বের সময় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ জমা পড়েছিল। একই অ্যাকাউন্ট থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে ED। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেন ওই লেনদেনকে গানের রয়্যালটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এখন মাসআর্টের ‘প্রিভিউ শো’-এর টিকিট বিক্রি, সরকারি টেন্ডার পাওয়া সংস্থাগুলির লেনদেন এবং অক্টেভ রেকর্ডসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এই তিনটি আর্থিক সূত্রকে একই তদন্তে খতিয়ে দেখছে ED।


