Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জঙ্গি যোগে ধৃত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সম্প্রতি পাক গুপ্তচর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রানা রউফের জেরায় আরোও বেশ কিছু সূত্র পায় পুলিশ। সেসবের রেশ মিটতে না মিটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও নোদাখালি এলাকা থেকে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। STF সূত্রের দাবি, ধৃত দু’জনের সঙ্গে আল কায়দার ভারতীয় শাখা AQIS (Al-Qaeda in the Indian Subcontinent)-এর যোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
‘মুঘল-ই-আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সাবিবিল্লাহ’ নামে দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ গোয়েন্দাদের নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে সমাজ মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে STF।তদন্তের সূত্র ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপর ভাঙড়ে অভিযান চালিয়ে এই দুই অ্যাকাউন্ট এর মালিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের একজনের নাম জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে জনাতুল বেগ ওরফে তুতুল। ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় একাই থাকতেন তুতুল। প্রতিবেশীদের কথা অনুযায়ী, তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়ির ভিতরেই থাকতেন এবং মোবাইল ফোনে কাজ করতেন। আগে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ব্যবহার করলেও সম্প্রতি মোবাইল ফোনেই বেশি কাজ করতেন। তবে তাঁর ঠিক কী কাজ ছিল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। মাঝে মাঝে কয়েকজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্য ধৃতের নাম শফিক শেখ। তাঁকে নোদাখালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শফিক ও তুতুল দু’জনেই AQIS (Al-Qaeda in the Indian Subcontinent) এর সদস্যপদ নিয়েছিলেন। এদের সাহায্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চলছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
STF সূত্রের দাবি, ধৃতরা বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলিতেও সংগঠনের যোগাযোগ বিস্তারের চেষ্টা হয়েছিল কি না, আপাতত তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


