Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র একদিন আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক ও উত্তরপ্রদেশের IPS কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মাকে (Ajay Pal Sharma) ঘিরে ফের বিতর্ক তুঙ্গে। তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
কী দেখা যায় ভিডিওতে ?
সোমবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে (ভিডিওটির সত্যতা Aaj India যাচাই করেনি) এক মহিলার সঙ্গে অজয় শর্মাকে নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটির চারপাশের আবহে স্পষ্ট, সেই স্থানে রীতিমত ফুর্তি চলছিল। এরপরেই তৃনমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর পোস্টে কটাক্ষ করে লেখেন, “আপনি নাচের চেয়ে পেশাগত কাজে বেশি দক্ষ হবেন বলে আশা করি।”
মহুয়া মৈত্রের পোস্ট : https://x.com/i/status/2048962130486198343
তবে, সোমবারে আরও একটি ভিডিও ঘিরে অজয় শর্মার (Ajay Pal Sharma) বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ফলতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে যান যোগী রাজ্যের ‘সিংহম’। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কোনও ধরনের গোলমাল হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই হুমকি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে বিরোধীরাও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়।
কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে সরব বিরোধীরা
সমাজবাদী পার্টি নেতা ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও এই ঘটনায় লজ্জা জানিয়ে দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি প্রশাসনের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে আদৌ পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তাও জানতে চান তিনি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এই ঘটনাগুলির পর নিন্দার ঝড় তুলেছে সমাজ মাধ্যমে। একজন পুলিশ পর্যবেক্ষক কোনো দলের প্রার্থীর বাড়িতে ঢুকে এভাবে হুমকি দিতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
অখিলেখ যাদবের পোস্ট : https://x.com/i/status/2048976771660578816
একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক হিসেবে অজয় পাল শর্মাকে (Ajay Pal Sharma) ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাঁর নিরপেক্ষতা ও পেশাগত আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে কোনও আধিকারিকের আচরণ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন কোনো বিতর্ক সামনে আসার ফলে মানুষের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যেতে পারে। এই ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যা অত্যন্ত জরুরি। তবে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় আদৌ কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।


