Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : লোকসভার স্পিকারের দপ্তরের নথি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আমন্ত্রণপত্রকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien) দাবি করেছেন, একই ২০ জন সাংসদকে একদিকে লোকসভার নথিতে তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সদস্য হিসেবে দেখানো হলেও, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর পাঠানো চিঠিতে তাঁদের ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
কী বলছে স্পিকারের নথি?
১৮ জুলাই, ২০২৬-তারিখের লোকসভার দলভিত্তিক সদস্য তালিকায় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ২৮ দেখানো হয়েছে। একই নথির ফুটনোটে উল্লেখ রয়েছে, ২০ জন সদস্য নিজেদের অনুরোধে আলাদা বসার আবেদন করেছেন। অর্থাৎ, তাঁরা আলাদা বসার আবেদন করলেও তাঁদের দলীয় অবস্থান এখনও তৃণমূল হিসেবেই দেখানো হয়েছে।
মন্ত্রীর চিঠিতে এনসিপিআই এর সদস্য
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর ১৮ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে লোকসভার সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্বোধন করে লেখা হয়েছে, তিনি এবং আরও ১৯ জন সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন দলের স্বীকৃতির আবেদন স্পিকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। সেই সূত্রেই সংসদের ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এই দুই নথির ভিত্তিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien)। তাঁর বক্তব্য, একই ২০ জন সাংসদকে একসঙ্গে তৃণমূল এবং এনসিপিআই, দুই দলের সদস্য হিসেবে দেখানো যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যদি এনসিপিআইকে সরকারি বলে মানে তবে তাদেরকে তৃনমূলের সাংসদ হিসেবে কেনো নথিভুক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, নতুন দলের স্বীকৃতির আবেদন এখনও লোকসভার স্পিকারের বিবেচনাধীন। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই সাংসদদের দলীয় অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও স্পিকারের দপ্তর বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।


