Aaj India Desk, কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই ঘুরে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির চাকা। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত তৃনমূল কংগ্রেসকে (TMC) ক্ষমতার শিখর থেকে নামিয়ে রাজ্য সরকার গঠন করতে সক্ষম বিজেপি। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জিতে কলিঙ্গ, অঙ্গের পর সত্যিই বঙ্গেও আসন পাকা করলো বিজেপি। তবে এই দীর্ঘ সময়ের রাজনীতির চাকা হঠাৎ ঘুরলো কীকরে তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে চলছে শোরগোল।
১৫ বছরের শাসনে তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ভোটাররা সরকারের কাজকর্ম, বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় স্তরের সমস্যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ২০২১ থেকেই তার রেশ দেখা গেলেও ভিতরে চাপা আগুন ছড়িয়েছিল বহুদূর। আগেই শিক্ষক নিয়োগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের ইমেজ ভেঙে দিয়েছিল। এরপর ভোটারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ধারণা। তৃনমূলের শক্ত ঘাঁটি ভাঙার ছবি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায়, যেখানে একসময় দলটি নিরঙ্কুশ প্রভাব বজায় রেখেছিল।
অন্যদিকে তৃণমূলের (TMC) একসময়ের মূল ভোটব্যাঙ্ক নারী ও যুবকরা এবার চাকরি, শিল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে ঝুঁকেছেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হলেও তাতে অসন্তোষই বেড়েছে বেকার যুবকদের মধ্যে। পাশাপাশি এই বছর সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের উপরও নির্ভর করতে পারেনি তৃনমূল কংগ্রেস। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, মঞ্চে ও পর্দায় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও তাদের জন্য যথাযথ কোনো ব্যবস্থা ও উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে নারী, যুব, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কগুলির বৃহত্তর অংশই প্রত্যাবর্তন নয়, বরং পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন।
অন্যদিকে বিজেপির সংগঠনগত বিস্তার এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। স্থানীয় স্তরে বুথ ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে বড় প্রচারের ক্ষেত্রে তাদের কৌশল রাজনীতির ময়দানে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নিয়েছে। ভোটের বহু আগে থেকেই অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গে আগমন ও বাঙালি জাতির মধ্যে সূক্ষ্ম ভাবে নিজেদের জয়গাথা ও তৃনমূলের দুর্নীতি প্রচারের মাধ্যমে জয়ের বীজ বপন করা হয়েছিল। ‘বদলা নয়, বদল’ থেকে তীব্র অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির নেপথ্যে লুকিয়ে তৃনমূলের দূরদৃষ্টির অভাব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিজেপির শক্তিশালী বয়ান এই তিনের সংমিশ্রণই এই রাজ্যের ভবিষ্যতের ফল নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আবার ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছে বিজেপি। ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি রাজনীতির কোন দিশাকে ইঙ্গিত করছে তা নিয়ে অবশ্য চলছে জল্পনা।


