31 C
Kolkata
Tuesday, May 5, 2026
spot_img

জয়ের পরেই গেরুয়া উল্লাস ! হিংসার নগ্ন প্রকাশে অস্বস্তিতে দলনেতা ?

Aaj India Desk, কলকাতা: ২০২৬-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক ল্যান্ডস্লাইডে জিতেছে বিজেপি (BJP)। তবে ভোটের ফলপ্রকাশের পরপরই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে অশান্তি। গতকাল রাত থেকে একাধিক জায়গায় গেরুয়া শিবিরের তাণ্ডবে রীতিমত ভীত জনসাধারণ। টালিগঞ্জ, রুবি থেকে সোনারপুর- যাদবপুরে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

বেলেঘাটায় এক তৃণমূল বুথ এজেন্টের দেহ তাঁর বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, সোমবার রাতে টালিগঞ্জে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বসতি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের বাইরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একদল ব্যক্তি সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং উচ্চস্বরে সঙ্গীত বাজানোর ঘটনাও ঘটে। বেলেঘাটার ব্লক সভাপতি পবিত্র বিশ্বাসের উপর হামলার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও রুবিতে তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে।

সোনারপুর ও যাদবপুর এলাকাতেও একাধিক হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। যাদবপুরের সাধারণ মানুষদের দোকানগুলি ভেঙে চুরমার করে বিজেপির (BJP) উল্লাসের বহিঃপ্রকাশকে নিন্দা করেন খোদ সিপিএম নেতা সৃজন। অন্যদিকে সোনারপুর এলাকাতেও দিকে দিকে বিক্ষোভ ও হামলার ছবি উঠে এসেছে। তিলজলা এলাকায় জয়ের আনন্দে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক প্রৌঢ়ার দোকান। বারুইপুরের রুবিনা খাতুনের বাড়িতেও আক্রমণ ও ভাঙচুর চালায় বিজেপির স্থানীয় সমর্থক।

তবে যাদবপুর, বেলেঘাটার মতো এলাকাগুলিতে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসা নতুন নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এগুলি দীর্ঘদিনের স্থানীয় দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। এই এলাকাগুলি অতীতে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। অন্যদিকে, বিজেপির (BJP) একাংশের দাবি, তাঁদের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে হামলা, বাড়িছাড়া হওয়া এবং আইনি চাপে ছিল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কিছু জায়গায় উত্তেজনা বেড়ে গেলেও এই বিষয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতাবৃন্দ। তাদের মতে, এই তাণ্ডব যারা করছে তারা বিজেপির সক্রিয় সদস্য নয়। বরং তৃনমূলের অত্যাচার ও দুর্নীতির শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ। বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, এগুলি তৃনমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

উল্লেখ্য, এই ধরনের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই বাংলায় রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়। কংগ্রেস শাসনের বিরুদ্ধে বামের আন্দোলনের সময় থেকে এই ধারা চলছে। ২০১১ সালে তৃনমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর এই নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা বেড়ে যায়। বহু বাম ও বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, বাড়ি ছাড়া করা, হত্যার অভিযোগ ওঠে তৃনমূলের বিরুদ্ধে। সেই চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ফের শুরু হয়েছে সেই তীব্র অশৃঙ্খলা। এবার দলীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন