Aaj India desk,কলকাতা: অবশেষে বঙ্গবিজয়ে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি(BJP)। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে তারা। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উঠে আসছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। নির্বাচনে জয়লাভ করেই যিনি হিন্দুরাজ্য গঠন করার কথা বলেছেন। শুভেন্দুর হিন্দু রাজ্যে মুসলমানদের ঠাঁই হবে না, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল। এই অবস্থায় কেমন আছেন সংখ্যালঘু ( minority) সম্প্রদায়ের মানুষরা?
গতকাল ফল ঘোষণার পরপরই রাস্তায় নেমে তাণ্ডব করতে দেখা যায় কিছু বিজেপি (BJP)সমর্থককে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, মারধোর চালায় তারা। বহু জায়গায় মসজিদ ভাঙ্গারও খবর আসে। যাদবপুরে এক হকারের দোকান ভাঙচুর করা হয় সংখ্যালঘু হওয়ার অপরাধে। যাদবপুর কালকের ঘটনার পর স্তব্ধ, কেউ এ বিষয়ে কিছু বলতেও চাননি। আজ ইন্ডিয়ার তরফ থেকে কিছু মানুষের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়েছিল। সাবিনা খাতুন নামে এক কলেজছাত্রী বলে, ” খুব ভয়ে ভয়ে রয়েছি।রাস্তাঘাটে বেরোতে খুব ভয় করছে। এতদিন যাই হয়ে যাক, কোনোমতে নিঃশ্বাসটুকু নিতে পারছিলাম। এবার কি হবে জানি না। বিজেপি( BJP) তো বলেছেই আমাদের তাড়াবে। তার উপর আমি মেয়ে, কোনো কারণে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে আর আগের মত নিশ্চিন্তে ফিরতে পারব না। মা বাবাও খুব চিন্তা করছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংখ্যালঘু ( minority)গৃহবধূ বলেন,” আমরা এই রাজ্যে কয়েক পুরুষ ধরে আছি। কখনো এমন নিরাপত্তার অভাব বোধ করিনি।”
অন্যদিকে ক্যানিং নিবাসী এক সংখ্যালঘু ( minority)সব্জিবিক্রেতা বলেন,” তৃণমূলের অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই বিজেপিকেই ( BJP)ভোট দিয়েছি, তবে এমনটা হবে ভাবতে পারিনি। আশা করব সামনের দিনগুলো ভালো হবে । আমার এস আই আরে নাম আছে , বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে না।”
একদিকে যেমন মুসলিম সম্প্রদায় ভীত, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক মহলেও আশংকা এই যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যেমন সরাসরি মিঞাদের গুলি করে মারার নিদান দিয়েছেন তেমনই পশ্চিমবঙ্গেও হতে পারে যদি শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। অন্যদিকে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক একটু হলেও বিজেপিমুখী হয়েছে, তাই নীতি নির্ধারণের সময় সেকথাও মাথায় রাখতে হবে বিজেপি( BJP) নেতৃত্বকে।


