Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের গণনা শেষে ২০৭টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি (BJP)। তবে তার পরেই শুরু হয় রাজ্য জুড়ে বিশৃঙ্খলা। ফল ঘোষণার পরই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক অশান্তি ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে।
শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাঙচুর, মারধর এবং বিরোধী দলের পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় তৃণমূলের ও সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগও এসেছে। এমনকি সাধারণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের উত্যক্ত ও তাদের উপর হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে।
শান্তি বজায় রাখতে দলের নির্দেশিকা
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরব হয় বিজেপির (BJP) নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির পক্ষ থেকে লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হয় যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, বিরোধী দলের বুথ, পার্টি অফিস বা সাইনবোর্ড দখল করা যাবে না। এছাড়াও অটো, টোটো স্ট্যান্ড বা বাজার দখলের মতো ঘটনাকে বরদাস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। এমন কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে সেই বিজ্ঞপ্তিতে।
রাজ্য সভাপতির শাস্তির বিধান
পাশাপাশি বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই বিষয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “যদি কোথাও বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে রাজনৈতিক হিংসা হয় বা তৃণমূলের অফিসে হামলা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।” তিনি আরও জানান, অটো বা টোটো স্ট্যান্ডে টাকা তোলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনকে দল নির্বিশেষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতা পুলিশ শহরজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ভুয়ো খবর ছড়ানো নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে। পুলিশের দাবি, কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব উভয়েই শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দিলেও রাজ্যে অভিযোগের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এবার প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় সেদিকেই নজর।


