Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারকে নিয়ে নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানকে স্বাগত জানালেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়ে তাঁর মনে রয়েছে কিছু প্রশ্ন। বিশেষ করে বিজেপির বাঙালি মানসিকতা এবং বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে দলের যোগসূত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এই দলটা যেন বাংলার নয়। বাংলা মানসিকতা এদের কম আছে।’
‘দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল তৃণমূল’
টানা তিনবার তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। তবে দলের শেষ দিকের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর অসন্তোষের কথা আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। এবারের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, বিধায়ক হিসেবে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝেছেন, মানুষ মূলত উন্নয়ন চায়। যে কোনও রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব সেই উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখা। কিন্তু তাঁর পর্যবেক্ষণ, ক্ষমতায় থাকার পাঁচ বছর পর থেকেই তৃণমূলের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। উন্নয়নের পরিবর্তে দলের একাংশ নিজেদের আখের গোছানোয় বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছিল।
‘ভাবিনি গোটা দলটাই ভ্যানিশ হয়ে যাবে’
তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন চিরঞ্জিৎ (Chiranjeet Chakraborty)। তিনি জানান, দলের গতিপ্রকৃতি দেখে একটা সময় তাঁর আগ্রহ কমে গিয়েছিল। তাই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে দল ছাড়ার পর যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা তিনি প্রত্যাশা করেননি। তাঁর কথায়, তৃণমূল সরকারের পতন হতে পারে, এমনটা ভাবলেও গোটা দলটাই কার্যত ভেঙে পড়বে, তা কল্পনা করেননি। এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
নতুন সরকার সম্পর্কে চিরঞ্জিতের মূল্যায়ন অবশ্য একেবারে নেতিবাচক নয়। তাঁর মতে, পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত পুরনো সরকারের জায়গায় নতুন দল নতুন আশা নিয়ে এসেছে। তবে সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটে, তা দেখতে চান তিনি। একই সঙ্গে বিজেপির সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, দলটিকে বাংলার নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির পরিবর্তে বৃহত্তর ভারতের একটি অংশ বলেই মনে হয়। ফলে বাংলার মানুষ কতদিন এবং কীভাবে এই দলকে গ্রহণ করবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
এখন দেখার, নতুন সরকার বাংলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি রাজ্যের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্য রেখে এগোতে পারে।


