Aaj lndia Desk, কলকাতা: পাঁচলার সভা থেকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee)। সংবিধান সংশোধনী বিল বিশেষত মহিলা সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধি প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যে বিলকে “মহিলা সংরক্ষণ”বলা হচ্ছে, তা আদতে অন্য উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লোকসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার আড়ালে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলের চেষ্টা চলছে। এমনকি “দেশভাগ”বা “বঙ্গভঙ্গ”-এর আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শুক্রবার সংসদে বিল পাশ না হওয়াকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে মমতার কটাক্ষ এটাই নাকি বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র পতনের সূচনা। তাঁর কথায়, “আমরা মহিলাদের অধিকারের পক্ষে, কিন্তু দেশের বিভাজনের পক্ষে নই।” সভামঞ্চ থেকে তাঁর আরও দাবি, বিরোধীদের সম্মিলিত অবস্থানের ফলেই কেন্দ্রের এই উদ্যোগ আটকে দেওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “ওদের মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, চাপে পড়েছে।”
২০২৩ সালেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়েছিল, যেখানে স্পষ্ট করে বলা ছিল ২০২৭ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং ২০৩৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হবে।তবে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। আচমকাই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব এনে ২০২৯ সাল থেকেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই প্রস্তাবের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও।ফলে প্রশ্ন উঠছে আগের নির্ধারিত রোডম্যাপ বদলে কেন এত তাড়াহুড়ো? বিরোধীদের দাবি, এর ফলে রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, আর সেই কারণেই নতুন করে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জোরদার বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিল ঘিরে বিরোধীদের প্রধান আপত্তি ছিল জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে। তাঁদের আশঙ্কা, যদি ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে উত্তর ভারতের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে যা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে তথাকথিত ‘গো-বলয়’-কে। ফলে দক্ষিণ ভারত,উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যদিও এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁদের বক্তব্য, আসন পুনর্বিন্যাসে কোনও অঞ্চলকে বঞ্চিত করা হবে না এবং সুষম প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখা হবে।তবুও শেষ পর্যন্ত সংসদে বিলটি পাস করানো যায়নি। কারণ, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। ফলে আপাতত স্থগিতই রয়ে গেল এই প্রস্তাব, আর সেই সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও তীব্র হয়ে উঠল।
পাঁচলার সভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিরোধীদের ‘ভোটকাটারি’ বলে কটাক্ষ করেন এবং অভিযোগ করেন, দেশের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই চেষ্টার বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছে তাঁর দল, আর তার ফল মিলতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। শুক্রবারের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ওদের পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে।”এখানেই থামেননি মমতা। বাংলার মানুষের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আরও একবার একইভাবে জবাব দিতে হবে। তাঁর কথায়, বিজেপির নিজের জোরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, অন্যের সমর্থনের উপর নির্ভর করেই সরকার চলছে এবং সেই ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে উঠছে। শেষে তাঁর কড়া বার্তা, “যখন পতন শুরু হয়, তা সম্পূর্ণভাবেই হয়”এই মন্তব্যে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুললেন তিনি।
পাঁচলার সভা থেকে নিজেদের নারী ক্ষমতায়নের নজির তুলে ধরে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, মহিলাদের জন্য আলাদা করে বিল আনার প্রয়োজন তৃণমূলের হয়নি পঞ্চায়েত ও পুরসভায় ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়েছে। এমনকি লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও দলের মহিলা প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট বেশি বলেই দাবি তাঁর।রাজনৈতিক সুর আরও চড়িয়ে মমতার হুঁশিয়ারি, “খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে”লোকসভা পর্বের পর এবার মাটির লড়াইয়েও বিজেপিকে হারানোর ডাক দেন তিনি। তাঁর ঘোষণা, বাংলার মাটি থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় লড়াই শুরু হবে, আর সেই লড়াইয়ের লক্ষ্য দিল্লি দখল।
একই সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটগ্রহণ ও গণনার গতি ধীর করার কৌশল নেওয়া হতে পারে। দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, শুরুতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে যে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে কিন্তু তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
মমতার আত্মবিশ্বাসী বার্তা, “শুরু যাই হোক, শেষ হাসি তৃণমূলেরই”এই বিশ্বাস নিয়েই ভোটযুদ্ধে নামার আহ্বান জানান তিনি।


