Aaj India Desk, হুগলি: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর একাংশ নেতা-নেত্রীর মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। কেউ দল ছেড়ে অন্য পথে হাঁটছেন, আবার কেউ দলের মধ্যেই থেকে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন। এরই মধ্যে হুগলির (Hooghly) রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিলেন জেলা পরিষদের সদস্য ও বলাগড়ের পরিচিত যুব নেত্রী রুনা খাতুন (Runaa Khatun)। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেছেন।
দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে রুনা বলেন, “মানুষের রায়কে সম্মান করা উচিত। নতুন সরকার দায়িত্ব পেয়েছে, তাই তাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া দরকার।” তাঁর মতে, “মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে রাজনীতিই একমাত্র পথ নয়। অন্যভাবেও মানুষের পাশে থাকা যায়।” ভবিষ্যতে কী করবেন, সে বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানান তিনি।
রুনা খাতুন হুগলি জেলা পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। রাজ্য যুব সংগঠনের নেত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। একসময় জেলা পরিষদের সভাধিপতি কিংবা বিধায়ক পদপ্রার্থী হিসেবেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বহুবার আক্ষেপ করেছিলেন যে, দলের তরফে তাঁর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। যদিও এতদিন তিনি প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর এবার তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই বিতর্ক এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সেই রুনা খাতুনের দলত্যাগ এখন হুগলির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।


