Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ঠিক আগে দলীয় অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন জঙ্গিপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ও প্রাক্তন শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন (Zakir Hossain)। নাম না করে দলের একাংশের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা বণ্টনে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। দলের বিরুদ্ধেই আবাসন প্রকল্পে অনিয়ম সহ একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগে ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জাকির হোসেন (Zakir Hossain) অভিযোগ করেন, দলের একাংশের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নিজেদের মতো করে বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর দাবি, প্রকৃত উপভোক্তারা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাদের ইতিমধ্যেই পাকা বা বহুতল বাড়ি রয়েছে, তারাই সরকারি অনুদান পাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রকৃত গরিব পরিবারগুলি সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁর কথায়, “যাদের দরকার, তারা পাচ্ছে না। যারা পাওয়ার যোগ্য নয়, তারা পাচ্ছে, এটা ঠিক হচ্ছে না।” তিনি জানিয়েছেন, একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও তাতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উচ্চস্তরের প্রভাবশালী নেতারাই সব ‘ম্যানেজ’ করে নেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জাকির বলেন, গরিব মানুষের টাকা নিয়ে অনিয়ম তিনি মেনে নিতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে রাস্তা নির্মাণ বা স্থানীয় উন্নয়ন কাজেও অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখলে তাঁর “মাথা ঠিক থাকে না” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমালোচনার মাঝেও নিজের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জাকির হোসেন (Zakir Hossain)। তিনি দাবি করেন, কাজের ক্ষেত্রে তাঁর গতি অন্যদের থেকে আলাদা। “আমি দশ মিনিটেই মিটিং শেষ করতাম। কাজ ফেলে রাখার পক্ষপাতী নই।” এই মন্তব্যে তিনি পরোক্ষভাবে বর্তমান ব্যবস্থার ধীরগতির দিকে প্রচ্ছন্ন প্রশ্নের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তবে দলের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও জাকির হোসেন স্পষ্ট করেছেন, সাধারণ মানুষের সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে। রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির ওপর ভরসা রেখে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জাকির হোসেনের এই মন্তব্য হঠাৎ নয়। দলের ভেতরে ‘পুরনো বনাম নতুন’ নেতৃত্বের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এই প্রেক্ষিতে তাঁর সরব হওয়া সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেই সামনে এনে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে শাসক দলের এক প্রার্থীর মুখে এ ধরনের অভিযোগ উঠে আসা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। সাধারণত নির্বাচনের সময়ে দলীয় ঐক্য ও বার্তা নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে দলের ভেতর থেকেই প্রকল্প বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


