Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: ভোজ্য তেল (Edible oil) -এর বাজারে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। বাজারে থাকা নন-স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেট যেমন ৬৫০ গ্রাম, ৮১০ গ্রাম, ৮৭০ মিলিলিটার বা ৯১০ মিলিলিটারের মতো বিভিন্ন অস্বাভাবিক মাপ ধাপে ধাপে তুলে দেওয়া হবে। এর বদলে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ বাধ্যতামূলক করা হবে।
সরকারের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে স্বচ্ছতা আনা এবং ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম কিছুটা কমিয়ে আনা।বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের সুবিধামতো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে তেল বাজারে আনছে, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা প্রকৃত মূল্য বুঝতে সমস্যায় পড়ছেন।
লিগ্যাল মেট্রোলজি প্যাকেজড কমোডিটিজ রুলস, ২০১১-এর আওতায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০ মিলিলিটার, ৫০০ মিলিলিটার, ১ লিটার, ২ লিটার, ৩ লিটার, ৪ লিটার, ৫ লিটার, ১৫ লিটার এবং ২০ লিটারের প্যাকেটকেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হবে।
২০২৩ সালে ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্যাক সাইজের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছিল। এরপর থেকেই বাজারে ৮৭০ মিলিলিটার, ৮১০ গ্রাম, ৮৫০ গ্রাম সহ নানা ধরনের প্যাকেট চালু হয়। এতে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হন এবং দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি হয়ে পড়ে।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম তুলনা করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে বাজারে শ্রিংকফ্লেশন অর্থাৎ প্যাকেটের পরিমাণ কমিয়ে দাম অপরিবর্তিত রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে ।
যেমনটা ধরুন এক ব্র্যান্ড ১ লিটার তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি করলে এবং অন্য ব্র্যান্ড ৮৭০ মিলিলিটার ১৬৫ টাকায় বিক্রি করলে প্রকৃত দামের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়। নতুন নিয়মে এই ধরনের বিভ্রান্তি কমবে।
পাম তেল, সয়াবিন, সর্ষে, সূর্যমুখীসহ সব ধরনের ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ভোজ্য তেল শিল্পের একাধিক সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিল।
সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ বাজার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ভোক্তাবান্ধব করবে এবং ক্রেতারা সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


