কলকাতা: রাজ্যের পালাবদলের পর মসজিদের মাইক (Mosque Loudspeaker) খোলা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই নিয়ে শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট বৈঠক। তার ঠিক পরের দিনই কলকাতায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ। পরপর দু’দিনে কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুর্শিদাবাদের দুই সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান।
আজ, অর্থাৎ শনিবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেল মসজিদের লাউডস্পিকার (Mosque Loudspeaker) এবং SIR প্রক্রিয়া। জানা গিয়েছে, SIR চলাকালীন তালিকা থেকে প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন দুই সাংসদ। পাশাপাশি মসজিদ থেকে মাইক্রোফোন না সরানোর আবেদনও জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা আইন মেনে চলার পক্ষেই রয়েছেন। তবে কোনও পদক্ষেপ যাতে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে, সেটিই তাঁদের মূল আবেদন।
বৈঠক শেষে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন, ‘মুসলিমদের টার্গেট করা হবে না’। আবু তাহের খান জানান, মসজিদের মাইক (Mosque Loudspeaker) ও সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ নিয়ে তাঁরা দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, এমন কোনও পদক্ষেপ যেন না করা হয় যাতে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের দিল্লির বৈঠকও তাৎপর্যপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল থেকে বেরিয়ে আসা সাংসদদের সঙ্গে মোদী প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। তাঁদের সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কারও চিন্তার কোনও কারণ নেই। আমি আপনাদের পাশে আছি।” একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, “NDA একটি পরিবার।”
রাজ্যের উন্নয়ন নিয়েও সাংসদদের কাজ করার পরামর্শ দেন মোদী। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজ্যগুলির উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে।এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই সাংসদের নবান্নে হাজিরা এবং মসজিদের মাইক (Mosque Loudspeaker) নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন! স্বাভাবিকভাবেই তা নতুন রাজনৈতিক কৌতূহল তৈরি করেছে।
মোদীর ‘পাশে আছি’ বার্তার পরই কি এবার শুভেন্দুর কাছে মুসলিম ইস্যুতে আশ্বাস চাইলেন আবু-খলিল? নাকি SIR ও মসজিদের মাইকের মতো স্থানীয় ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য? আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথেই মিলবে উত্তর।


