দক্ষিণ ২৪ পরগণা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (west bengal assembly election 2026) প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে বিতর্কে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে নিবার্চনের আগে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে । কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ECI) এবার কড়া হাতে সমস্ত কিছুর মোকাবিলা করায় হুমকি সংস্কৃতি থেকে কার্যত ব্যাকফুটে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল (TMC)। এই অবস্থাতেও তৃনমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল বাইক বাহিনীর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। এবং কমিশনের তরফ থেকেও তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হুমকি সংস্কৃতি সামনে আসতেই কমিশনের প্রতি পাল্টা তোপ দেগেছে তৃণমূল (TMC)। তাদের দাবি নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথামত কাজ করছে এবং ভিডিওর তথ্য বিকৃত করে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। তাদের কথায়,”রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচার চালানোর অনুমতি ছিল এবং মোটরবাইক র্যালিটি হয়েছিল রাত ৯টা ৫১-৫২ মিনিটের দিকে। র্যালিতে কোনো উস্কানিমূলক স্লোগান ছিল না, কিন্তু ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বাংলা-বিরোধীরা ভয় পায়।নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য এই সবকিছু করছে। কিন্তু ৪ মে যখন ব্যালট খোলা হবে, তখন ইসিআই-বিজেপি বড় ধাক্কা খাবে।” বাইক মিছিল থেকে কোনো ভোটারদের ভয় দেখানো হয়নি বলেই তাদের বক্তব্য।
পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৃনমূলের(TMC) অভিযোগ, “ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা হোটেলে এক পুলিশকর্তা ‘বিজেপি প্রার্থীর’ সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন কী ব্যবস্থা নিয়েছে আমরা জানতে চাই। মন্দিরবাজার এলাকায় নগদ টাকা বিতরণের জন্য বিজেপির লোকেরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন – তাই নজর ঘোরাতে ডায়মন্ড হারবারে এই কাজ করা হচ্ছে।”
গতকাল নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় তৃণমূলের (TMC ) বাইক মিছিল থেকে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, হুমকি, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে ‘আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ’ দর্শিয়ে সাসপেন্ডও করে কমিশন। ফলে তৃনমূলের (TMC) এতদিনের ‘ভোট করানোর’ কৌশলগুলি বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই ব্যর্থতা থেকেই তাদের এই পাল্টা অভিযোগ বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি ।


