Aaj India Desk,কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে তখন এক সোনালি অধ্যায় লেখা হচ্ছিল। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছিল ভারত, আর সেই মহাযজ্ঞের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল কলকাতা।সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে ২০১৭ সালে বিশ্বমানের রূপ দিতে ঢেলে সাজানো হয়। শহরের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সেটাই ছিল এক গর্বের মুহূর্ত যেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আলো এসে পড়েছিল কলকাতার বুকেই।
কিন্তু সেই আধুনিকতার আবহে স্টেডিয়ামের বাইরে বসানো হয় এক অদ্ভুত ভাস্কর্য, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকের চোখে তা ছিল শিল্পের আধুনিক প্রকাশ, আবার কারও মতে তা কিম্ভূত-কিমাকার এক নির্মাণ, যা স্টেডিয়ামের সৌন্দর্যের সঙ্গে মানানসই নয়।
যুবভারতীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মূর্তিটা নিয়ে শুরু থেকেই যত না শিল্পচর্চা তার চেয়ে বেশি গবেষণা চলেছে এটার মানে আসলে কী! পা থেকে কোমর পর্যন্ত এক রহস্যময় কাঠামো, আর তার মাথায় আবার গর্ব করে বসানো বিশ্ববাংলা লোগো দেখে অনেকেই প্রথমে ভেবেছিল এটা ফুটবল নাকি আধুনিক আর্ট, না কি দুটোই একসাথে বানাতে গিয়ে একটু বেশি এক্সপেরিমেন্ট হয়ে গেছে।
তার ওপর পায়ের দিকে লেখা জয়ী যেন দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, বুঝতে না পারলেও জয় কিন্তু নিশ্চিত। মজার ব্যাপার হলো, এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই অদ্ভুত ডিজাইন করল কে? মাননীয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই ডিজাইন করার পর থেকেই ক্ষোভ এ ফোঁসছিল ইস্টবেঙ্গল -মোহনবাগান-মহমেডান ও।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর যুবভারতীতে গিয়ে ডার্বি দেখে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানালেন, ভিভিআইপি গেটের পাশের এই মূর্তি এবার সরানো হবে, কারণ সেটা শোভনীয় নয়।
তিনি কিছুটা মজার ছলেই বলেন, এমন অদ্ভুত মূর্তি বসানোর পর থেকেই আগের সরকারের দুর্দশা শুরু তারপর মেসি কাণ্ড থেকে শুরু করে সরকার বদল পর্যন্ত সবই এক লাইনে জুড়ে গেছে।


