Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রেল স্টেশন চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় চলছে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান। ইতিমধ্যেই শিয়ালদহ, হাওড়া সহ একাধিক রেলস্টেশনে হকারদের উচ্ছেদ ও তপসিয়া- তিলজলার মত এলাকায় অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, শুধু হাওড়া স্টেশন নয়, বাংলার প্রায় প্রতিটি স্টেশনই বাজারে পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্টেশন চত্বরে হকারদের অতিরিক্ত ভিড়, অস্থায়ী দোকান এবং নোংরা পরিবেশের কারণে সাধারণ যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “মহিলা, শিশু বা সাধারণ মানুষের বসার জায়গা পর্যন্ত নেই। রেল নিজেদের জমি উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের পরিষেবার কাজে ব্যবহার করবে।”
এর পাশাপাশি হকার ইস্যুতে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) দাবি, বাংলার পরিস্থিতি “জম্মু-কাশ্মীরের থেকেও খারাপ” হয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, “অনুপ্রবেশকারীদের বসতে দেওয়া বাংলার সংস্কৃতি নয়। রাজ্যের আগের সরকার বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করেছে। সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা চলছে।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্টেশন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে একাংশ সমর্থন করলেও, উচ্ছেদ হওয়া ছোট ব্যবসায়ী ও হকারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত মানুষ। বিকল্প পুনর্বাসন বা কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সেখানকার গরিব মানুষদের আগামী দিনে রুজির ব্যবস্থা কিভাবে হবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বামপন্থী নেতা শতরূপ ঘোষ, আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তপসিয়া অঞ্চলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য ও নির্বিচারে সমস্ত নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করে বুলডোজার অ্যাকশন চালানোর বিরুদ্ধে আদালতের স্টে অর্ডারও নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, শহরকে পরিষ্কার ও যানজটমুক্ত রাখার প্রয়োজন যেমন আছে, তেমনই জীবিকার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিজেপি সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।


