Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্য সরকারের পালাবদল হতেই ভোল বদল সিস্টেমের! আজ থেকেই নতুন বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনার উদ্যোগ হিসেবে শুরু করলো ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। সোমবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও।
সকাল ১০টা নাগাদ কর্মসূচি শুরু হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পার্টি অফিসে পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ঘর থেকে বাইরে যেতে অনুরোধ করেন, যাতে সাধারণ মানুষ ক্যামেরার সামনে অস্বস্তি বোধ না করেন এবং নির্দ্বিধায় নিজেদের কথা বলতে পারেন।
সপ্তাহে দু’দিন ‘জনতার দরবার’
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহে এক বা দু’দিন দু’ঘণ্টা করে এই কর্মসূচি চালানো হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা, যাতে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
নবান্ন সূত্রে খবর, এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত হয়নি, প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কমবে রাজা – প্রজার দূরত্ব ?
এই কর্মসূচির দৌলতে সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কিছুটা কমতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ। সাধারণত প্রশাসনিক জট, দফতরভিত্তিক নিয়ম এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বহু মানুষের সমস্যা উচ্চস্তর পর্যন্ত পৌঁছয় না। সেই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তাৎক্ষণিক নির্দেশের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলে সরকারের জবাবদিহিও বাড়বে। তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি ও বাস্তব ফলাফলের উপর।
অন্য রাজ্যেও রয়েছে একই মডেল
দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতা দরবার’ রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশাতেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য অনুরূপ ব্যবস্থা রয়েছে। ওড়িশায় এই কর্মসূচির নাম ‘জন শুনানি’। রাজ্যের নতুন সরকারের এই উদ্যোগ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কতটা বাড়াতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


