Aaj India Desk, কলকাতা : বাংলার নির্বাচন শেষ হলেও রাজনৈতিক সিনেমার শো যেন শেষ হয় না। এবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর জন্মবার্ষিকীতে সামনে এলো নতুন বায়োপিকের নাম। বিজেপি বিধায়ক ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির বক্তব্য অনুযায়ী, শীঘ্রই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হতে চলেছে চলচ্চিত্র ‘শ্যামা’ (Shyama)। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
তরুণজ্যোতি তেওয়ারির দাবি, ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়াই এই ছবির মূল উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, অতীত সম্পর্কে অজ্ঞতা ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, শ্যামা (Shyama) ছবিটি এমনভাবে নির্মিত হচ্ছে যাতে Gen Z এবং Gen Alpha-ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ৫১ বছরের জীবনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দেশের রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদের জীবন নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রতে উঠে আসবে ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সালের ঘটনাপ্রবাহ, দেশভাগ, ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে, উদ্বাস্তু সংকট, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্ন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইতিহাসভিত্তিক একাধিক চলচ্চিত্রকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দি কাশ্মীর ফাইলস, দি কেরালা স্টোরি, আর্টিকেল ৩৭০, দি সবারমতি রিপোর্ট, ধুরন্ধর জাতীয় চলচ্চিত্রকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে সমালোচনা করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ ছিল, এসব ছবিতে ইতিহাস বা সমসাময়িক ঘটনাকে একপাক্ষিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একইভাবে ‘শ্যামা’ও (Shyama) মুক্তির আগে থেকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ছবির বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা এবং ঐতিহাসিক ঘটনাকে কীভাবে তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই বায়োপিকের প্রতিটি ছত্রে যে বিজেপির আদর্শ যে প্রতিফলিত হবে সে নিয়ে বিশেষ সন্দেহ নেই। ফলে ছবিটি কেবল একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক বয়ান ও ইতিহাসচর্চার বিতর্কের অংশ হিসেবেই রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।


