কলকাতা: সদ্য কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মুখ দোলা পরমা দেবনাথ (Dola Parama Debnath)। প্রেগনেন্সি জার্নির খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে তাঁর কনটেন্ট হিসেবে বাদ যায়নি হাসপাতালের প্রাইভেট কেবিন এমনকি বেবি ইউনিটও! সব মিলিয়ে হাসপাতালের প্রায় ৮০ টি মিনি ভ্লগ বানিয়েছেন দোলা পরমা দেবনাথ। ভিডিও গুলোতে মিলিয়নের উপর ভিউ এসেছে। তবে রিল বানাতে গিয়ে রিয়েল ফ্যাসাদে পড়লেন সদ্য মা হওয়া এই কনটেন্ট ক্রিয়েটার!
ঠিক কি ঘটেছে?
বস্তুত, নিজের সন্তানের ভিডিওর পাশাপাশি হাসপাতালের বেবি ইউনিটের একটি ভিডিও-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছিলেন দোলা (Dola Parama Debnath)। সেখানে একসঙ্গে একাধিক সদ্যোজাত শিশুকে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিতর্ক বাড়তেই মুখ খুলেছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নজরে আসার পরই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতালের নির্দেশ মেনেই মূল পোস্টটি ইতিমধ্যেই ডিলিট করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, সদ্যোজাত শিশুদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কি ছিল দোলার ভিডিওতে?
উত্তর ২৪ পরগনার গুমার বাসিন্দা দোলা পরমা দেবনাথ (Dola Parama Debnath) কয়েকদিন আগে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসবের জন্য ভর্তি হন তিনি। হাসপাতালের বেড থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগের মুহূর্ত,সবই মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সন্তান জন্মের পরও থামেনি রিলের পর্ব। হাসপাতালের কেবিনে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ভিড়, রোগীর বেডে বসে আড্ডা, এসব দৃশ্যও ধরা পড়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে। এমনকি সন্তান জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় হাসপাতালের কেবিনেই জামদানি শাড়ি পরে সাজগোজ করে রিল বানাতেও দেখা যায় তাঁকে (Dola Parama Debnath)।
এরপর বাড়ি ফেরার পথেও ক্যামেরা ছিল অন। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের চারদিন পূর্ণ হওয়ার আগেই গাড়ির সামনের সিটে বসে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ম্যাগি কিনে খাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। বাড়িতে পৌঁছতেই সদ্যোজাতকে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে স্বাগত জানানো হয়। শিশুর পা আলতায় ডোবানোর মুহূর্তও রিলে জায়গা পায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন, ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কি শুধুই কনটেন্ট? নাকি ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতার সীমারেখা ক্রমশ মুছে যাচ্ছে?


