Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) সেশেলস সরকারের দেওয়া ‘অর্ডার অব দ্য গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ সম্মানকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ফের নতুন করে শুরু হয় বাকযুদ্ধ। মোদীকে সম্মান দেওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওয়াজা আসিফ। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর এবার কড়া ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করলো কেন্দ্র।
সম্প্রতি সেশেলস সফরে গিয়ে ‘অর্ডার অব দ্য গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ সম্মানে ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ, নীল অর্থনীতির বিকাশ এবং সমুদ্রকেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয় বলে জানায় সেশেলস সরকার।
এই সম্মান নিয়েই প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওয়াজা আসিফ। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদীর (Narendra Modi) সফরের ঠিক আগে তড়িঘড়ি এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি খসড়া উদ্ধৃতিপত্রে বানান ও টাইপজনিত ভুলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, গোটা বিষয়টি ‘পরিকল্পিত’ এবং ‘লজ্জাজনক’।
তবে এবার খওয়াজার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালো নয়া দিল্লি। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, খওয়াজা আসিফ এমন বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, যার সম্পর্কে তাঁর পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তাঁর বক্তব্যকে ‘অবাস্তব’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকলেও হয়তো তাঁর হাতে এখন বিশেষ কোনো কাজ নেই, তাই এমন মন্তব্য করছেন। পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া মূলত রাজনৈতিক হিংসা ও বিদ্বেষ থেকেই এসেছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।
পাশাপাশি সেশেলস প্রশাসনও জানায়, খওয়াজা যে নথিটি দেখিয়েছেন, সেটি ছিল একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া। চূড়ান্ত সংশোধনের আগেই সেটি ভুলবশত বাইরে চলে যায়। পরে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত চূড়ান্ত উদ্ধৃতিপত্রে কোনও বানান বা তথ্যগত ত্রুটি ছিল না। তারা আরও বলে যে, ‘অর্ডার অব দ্য গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ কোনও নতুন সম্মান নয়। দেশটির জাতীয় সম্মান সংক্রান্ত আইনের আওতায় এটি আগেই চালু হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের আগেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হয়।
মোদীকে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্মানকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্কে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যের কূটনৈতিক উত্তেজনাকে ফের সামনে এসেছে। এখন এই ইস্যুতে দুই দেশের রাজনৈতিক বক্তব্য কোনদিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


